Logo

কমলগঞ্জে ঐতিহাসিক ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত: হাজারো মানুষের ঢল

রাজু দত্ত / ৪১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নে আজ ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

তান্ত্রিক রীতিনীতি ও রোমাঞ্চকর আচার আজকের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো এবং বিভিন্ন অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ড। গত ১০-১২ দিন ধরে ব্রত পালনকারী ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী আজ তাদের কৃচ্ছ্রসাধন শেষ করেন। জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’র মতো রোমাঞ্চকর তান্ত্রিক আচারগুলো উপস্থিত হাজার হাজার দর্শককে বিমোহিত করে।

দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত ৪টি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীরা পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরার দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান। ভক্তরা ভক্তিভরে চড়ক গাছে ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে পূজা নিবেদন করেন।

পূজা উপলক্ষে দিঘীর চারপাশ জুড়ে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, “আজকের এই জনস্রোত প্রমাণ করে যে এটি কেবল হিন্দুদের উৎসব নয়, এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।”

আজকের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আসাদুজ্জামান এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল আউয়াল মেলা এলাকা পরিদর্শন করেন। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ছিল।

আগামীকাল ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!