মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া ও ডবলছড়া এলাকায় কৃষিপণ্য জোরপূর্বক লুট, বাজারজাতকরণে বাধা প্রদান এবং পান গাছ কেটে ফেলার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনী এলাকায় কমলগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের চা-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চা শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ: বক্তারা অভিযোগ করেন, এক সময় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত চক্র বর্তমানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চক্রটি সুনছড়া ও ডবলছড়া চা বাগান এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বাধা দিচ্ছে এবং জোরপূর্বক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করছে।
তারা বলেন, চা শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের বাইরে নিজেদের ভিটাবাড়ির আশপাশে ও পতিত জমিতে পান, লেবুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে বাধা দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বিক্রি করতে বাধ্য করে। এতে কৃষকরা বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বক্তারা আরও জানান, প্রতিবাদ করলে কৃষকদের পান গাছ ও অন্যান্য ফলদ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে এবং বসতবাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক আদিবাসী ফ্রন্টের সভাপতি পরিমল বাড়াইক, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, ইউপি সদস্য পারতালি রাজভর, গোপাল গোয়ালা, জনক লাল দেশওয়ারা, লসমি রাণী রাজভর, চা শ্রমিক নেতা সুনীল মৃধা, নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, সীতারাম বীন এবং কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রত্যুষ ধর।
বক্তারা কৃষকের উৎপাদিত ফসল ও কৃষি সম্পদের ওপর এই হামলাকে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এলাকায় চা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা তাদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।