Logo
সংবাদ শিরোনাম :
ভানুগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে কাটা হচ্ছে টিলা ও গাছ সাংবাদিকদের সাথে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুর ববের শুভেচ্ছা বিনিময় কমলগঞ্জে ৭৫০ দৌড়বিদের অংশগ্রহণে আলট্রা ম্যারাথন গোকুলানন্দ গীতিস্বামী‘র ১২৯ তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে টিউবওয়েল বিতরণ কমলগঞ্জে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত নান্না বিআরডিবি’র সভাপতি নির্বাচিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ক্রমশ প্রাণী শুন্য হচ্ছে চা-পাতা ভর্তা আটার রুটি খেয়েই চলে চা শ্রমিকের দিন খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান ‘সেং কুটস্নেম’ উদযাপন মুন্সিবাজার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে ময়লার স্তুপ ! বন্যপ্রাণীর হাত থেকে ফসল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা জীবন ও জীবিকাঃ বংশীবাদক কৃষ্ণের সুরের মূর্ছনা সাংবাদিকদের সাথে বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী ময়নুল ইসলামের মত বিনিময় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মুজিবের শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টার মৃত্যুতে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ জাতীয় সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা শেষ হলো ঐতিব্যবাহী মণিপুরি মহারাসলীলা উৎসব কমলগঞ্জে সম্পন্ন হলো চা শ্রমিকদের ২৫ তম কাত্যায়ানী পূজা

ফিচার :- দৃষ্টিহীন মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন সংগ্রাম

রিপোটার : / ৩৩৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামে। ১২ বছর বয়সে বাম চোখ অন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার অভাবে পরে ডান চোখের আলোও হারান। দুচোখের আলো হারালেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি মৃত্যুঞ্জয়। হতাশা নয়, মনোযোগ দেন কাজে। ধীরে ধীরে পরিণত হন বাঁশ-বেতের নিপুণ কারিগরে।

তার দু’হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় কুলা, চাটাই, চাঙারি, টুকরি, উড়া, ডালা, চালুনি, মাছ শিকারের খলই, ঝুড়ি ও হাঁস-মুরগির খাঁচাসহ বাঁশ ও বেতের নানান শৌখিন জিনিসপত্র বানান তিনি।

প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে মৃত্যুঞ্জয় সংসারের হাল ধরেছেন। হস্ত ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন বাবা বীরেন্দ্র বিশ্বাস। বছর খানেক আগে বিয়েও করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। স্ত্রী, ছোট ভাই আর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়েই তার সংসার।

স্থানীয়রা জানান, ১২ বছর বয়স থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের দুই চোখে ব্যথা হতো। ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রথমে বাম চোখ তিন বছর পর ডান চোখ অন্ধ হয়ে যায় তার। চোখে না দেখলেও বাঁশ ও বেতের কাজ আয়ত্ত করেছেন তিনি।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ছোটবেলায় মাথা গোজার ঠাঁই ছিল না। টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন চোখের রগ শুকিয়ে গেছে। চোখ আর ভালো হবে না বলেছেন চিকিৎসকরা। আমি চোখে দেখি না, তবে সৃষ্টিকর্তা আমাকে কাজ করার শক্তি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু নেওয়া আমি পছন্দ করি না। চোখের আলো হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। তবে হাল ছাড়িনি। কিছু করার অদম্য ইচ্ছা থেকে এ পর্যন্ত এসেছি। কাজ করে খাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। সমাজে সবার সঙ্গে আনন্দ নিয়ে থাকা যায়।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্র বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। পাইকাররা বাড়ি থেকে এসে নিয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাই না।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সূচিত্র রায় বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়া যে সমাজের প্রতিবন্ধকতা নয় তা মৃত্যুঞ্জয় বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিজের জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন তিনি। আমরা অবশ্যই তার জন্য সরকারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!