Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে হৈরোল ফাউন্ডেশনের গুণীজন সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন কাবিনের জমিতে গড়া শিক্ষালয়: ত্যাগের মহিমায় বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা র‌্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে কমলগঞ্জে এয়ারগান ও গুলি উদ্ধার কমলগঞ্জে বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত বৃদ্ধা শীতের তীব্রতায় অসহায়দের পাশে পুনাক মৌলভীবাজারে ৮০ জনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ মনোনয়ন বাছাইয়ে মৌলভীবাজারে চার আসনে টিকে রইলেন ২৬ প্রার্থী স্মৃতির টানে একত্রিত প্রাক্তনরা, আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনমেলা গভীর রাতে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল পৌঁছে দিলেন ইউএনও আদমপুর ইউনাইটেড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পৌষের শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের ৯২ বাগানের চা শ্রমিক কমলগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল মনিপুরী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তারুণ্যের নবযাত্রা: কমলগঞ্জে লৈশেমপুং ও ইউনেস্কোর বিশেষ আয়োজন কমলগঞ্জে ‘হৈরোল ফাউন্ডেশন’ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন কমলগঞ্জে “পাঙাল সাহিত্য” সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠিত  শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জের ১১৩ গির্জায় উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যে বড়দিন পালিত তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে কমলগঞ্জে বিএনপির স্বাগত মিছিল কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সভা ও কমিটি গঠন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিলো ৪৬ বিজিবি হাবিবুন নেছা চৌধুরী গার্লস একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নারী-শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক অপরাধ দমনে মাধবপুরে বিট পুলিশিং সভা

মৌলভীবাজারে পালিত হয়েছে গারোদের নবান্ন উৎসব ওয়ানগালা

রিপোটার : / ৭১৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। প্রতিবছরের মতো এবারও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া (গারো লাইন) মাঠে অনুষ্ঠিত হলো গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ওয়ানগালা উৎসব। শ্রীচুক আচিক আসং নকমা এসোসিয়েশন ও শ্রীচুক গারো যুব সংগঠনের আয়োজনে জাকজমপূর্ণ হয়ে ওঠে এ অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেয় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের গারো সম্প্রদায়।

রোববার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ‘থক্কা’ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ওয়ানগালা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশপ শরত ফ্রান্সিস গমেজ (সিলেট ধর্ম প্রদেশ) এবং তার সভাপতিত্বে দুপুরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসবে ক্রুশচত্বরে বাণী পাঠ (মান্দিতে), খামালকে খুথুব ও থক্কা প্রদান, জনগণকে থক্কা দেয়া, পবিত্র খ্রীষ্টযাগ, দান সংগ্রহ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা করা হয়। এ সময় গারো সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গারোদের নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়।

প্রধান পুরোহিত ফাদার প্লাসিড প্রশান্ত রোজারিও জানান, সুপ্রাচীনকাল থেকে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্ম ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।

ওয়ানগালা

গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ওয়ানগালা। ‘ওয়ানা’ শব্দের অর্থ দেবদেবীর দানের দ্রব্যসামগ্রী আর ‘গালা’ অর্থ উৎসর্গ করা। দেবদেবীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মনোবাসনার নানা নিবেদন হয় এ উৎসবে। সাধারণত বর্ষার শেষে ও শীতের আগে নতুন ফসল তোলার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এর আগে নতুন খাদ্যশস্য ভোজন নিষেধ থাকে এ সম্প্রদায়ের জন্যে। তাই অনেকেই একে নবান্ন বা ধন্যবাদের উৎসবও বলে থাকেন। আবার ওয়ানগালা উৎসব একশ ঢোলের উৎসব নামেও পরিচিত।

গারোদের বিশ্বাস, ‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন। নতুন ফল ও ফসল ঘরে উঠবে, তার আগে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে শস্যদেবতার প্রতি।

গারো সম্প্রদায়ের এটাই চল। তাই শস্যদেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য নেচে-গেয়ে উদযাপন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করা হয় শস্যদেবতার কাছে।

ওয়ানগালা উৎসব একশ ঢোলের উৎসব নামেও পরিচিত। সাধারণত দুইদিন ধরে উৎসব চলে। কখনও কখনও এক সপ্তাহ ধরেও এটি চলতে পারে। উৎসবের প্রথম দিনে গোত্রপ্রধানের ঘরে রাগুলা নামের অনুষ্ঠান পালিত হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিন কাক্কাত নামে পরিচিত। এই দিন ছোট বড় সবাই রঙবেরঙের পোশাক ও পাখির পালক মাথায় দিয়ে লম্বা ডিম্বাকৃতি ঢোলের তালে তালে নাচে।

এই দিন হল বিনোদনের দিন। সারা গারো পাহাড় ঢোলের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। পুরুষ ও নারীরা দুইটি আলাদা সারি গঠন করে এবং নাচের তালে তালে এগিয়ে যান। সাথে থাকে মহিষের শিঙে বানানো এক ধরনের আদিম বাঁশির সুর।

ওয়াংগালা উৎসব মেঘালয় ও বাংলাদেশের গারোদের সংস্কৃতির সংরক্ষণে ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।এটা জনপ্রীয় একটি উৎসব।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!