মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ চিকিৎসাজনিত ছুটি শেষেও কর্মস্থলে যোগদান করেননি। নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে গত ১ অক্টোবর তাঁর বিদ্যালয়ে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। আজকের তারিখ (২৭ অক্টোবর) পর্যন্ত তিনি টানা ৮৭ দিন ধরে বিদ্যালয় থেকে অনুপস্থিত আছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পাল বিষয়টি লিখিতভাবে কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোনো দায়িত্ব হস্তান্তর না করেই প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
সহকারী শিক্ষিকা প্রতিমা সিনহা জানান, প্রধান শিক্ষক প্রথমে এক মাস এবং পরে আরও এক মাসের ছুটি নেন। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও তিনি আর বিদ্যালয়ে আসছেন না। আরেক সহকারী শিক্ষিকা জেবিন আক্তার সিদ্দিকীও একই তথ্য দিয়ে বলেন, তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ৮ অক্টোবর অন্য জেলা থেকে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করা সহকারী শিক্ষিকা সবিতা কৈরী জানান, যোগদানের সময় তিনি প্রধান শিক্ষককে পাননি। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পালের কাছে কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি যোগদান করেন।
সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পাল বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে লিখিত কোনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। দাপ্তরিক কাজ চালাতে গিয়ে নিয়মিত উপজেলা শিক্ষা অফিসে ছুটতে হচ্ছে, যা স্বাভাবিক পাঠদানে সমস্যার সৃষ্টি করছে।”
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান অভিভাবক সদস্য সালেহ আহমেদ জানান, প্রধান শিক্ষক তাঁর উপস্থিতিতে একজন সহকারী শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজের দায়িত্ব দিয়ে গেলেও এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি ১ অক্টোবর যোগদান করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহমান বাবর জানান, বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া টানা ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক নথি সংরক্ষণ ও কার্যক্রমে চরম সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।