মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় ব্রাক্ষনবাজার- শমশেরনগর সড়ক দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা করছে স্থানীয় একটি চক্র। এতে করে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। রাস্তায় বালু থাকায় নিয়মিত দূর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ব্রাক্ষনবাজার- শমশেরনগর সড়কের কটারকোনা কুনিমুরা অংশে সড়ক দখল করে এই বালুর ব্যবসা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির জন্য ব্রাক্ষনবাজার- শমশেরনগর সড়কের কটারকোনা কুনিমুরা অংশে সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। এসব বালু বিক্রির জন্য সড়কের উপর বড়বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে বলু তুলা হচ্ছে। এতে করে সড়কের অংশ সরু হয়ে যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে এই অংশে সড়কের উপর ছড়িয়ে পড়া বালুতে নিয়মিত দূর্ঘটনা ঘটছে। চলাচলের সময় শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের চোখ, নাক ও মুখের ভেতর বালু পড়ছে। এছাড়া সড়কের একপাশ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের জায়গা দখল করে বালু বিক্রির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দিনরাত সবসময় বালু বিক্রি করা হয়। একসাথে অনেকগুলো ড্রাম ট্রাকে দাঁড় করিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। এসব গাড়ি এখানেই আবার ঘুরানো হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের অনেক কষ্ট হয়। বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এছাড়া ব্রীজের কাছাকাছি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোটরসাইকেল চালক সাঈদুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে যাওয়াআসা করি এই পথে। আমার বাচ্চার চোখে বালু পড়ে এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। বাচ্চা স্কুলে যেতে পারছে না। সড়কের এই অংশ আমাদের বালুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। এতে প্রায়ই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে।
হাজীপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, আমরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করার সময় অনেক কষ্ট হয়। চোখে- মুখে বালু ঢুকে যায়। আমরা না করলেও আমাদের কথা কেউ শুনেন না।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়সার হামিদ বলেন, সড়কের উপর কোন ভাবেই বালু বিক্রি করা যাবেনা। বিষয়টি আমার জানা ছিলেনা। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমরা দেখতেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।