Logo
সংবাদ শিরোনাম :
শমশেরনগর হাসপাতালে দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আল্পনার সাত রঙে সেজেছে বিটিআরআই সড়ক কমলগঞ্জে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিনে যুবদলের দোয়া মাহফিল সিলেটের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কমলগঞ্জে বেলা’র প্রচারাভিযান ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত কমলগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মাধবপুর চা বাগান থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সাংবাদিক তুহিন হত্যা‘র প্রতিবাদে কমলগঞ্জে মানব বন্ধন কমলগঞ্জে গলাকেটে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা তীরের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা কমলগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবসে আলোচনা সভা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত । কমলগঞ্জ উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ গঠন দারিদ্রতার বেড়াজালে বন্দী অনন্যার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন কমলগঞ্জে যুবতীর আত্মহত্যা সীমাহীন ভোগান্তিতে টমেটো গ্রাম বনগাঁও এর কৃষকরা চিরনিদ্রায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ বাড়িতে গিয়ে জন্ম সনদ ও শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান

ফিচার :- দৃষ্টিহীন মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন সংগ্রাম

রিপোটার : / ৩২০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামে। ১২ বছর বয়সে বাম চোখ অন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসার অভাবে পরে ডান চোখের আলোও হারান। দুচোখের আলো হারালেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি মৃত্যুঞ্জয়। হতাশা নয়, মনোযোগ দেন কাজে। ধীরে ধীরে পরিণত হন বাঁশ-বেতের নিপুণ কারিগরে।

তার দু’হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় কুলা, চাটাই, চাঙারি, টুকরি, উড়া, ডালা, চালুনি, মাছ শিকারের খলই, ঝুড়ি ও হাঁস-মুরগির খাঁচাসহ বাঁশ ও বেতের নানান শৌখিন জিনিসপত্র বানান তিনি।

প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে মৃত্যুঞ্জয় সংসারের হাল ধরেছেন। হস্ত ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন বাবা বীরেন্দ্র বিশ্বাস। বছর খানেক আগে বিয়েও করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। স্ত্রী, ছোট ভাই আর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়েই তার সংসার।

স্থানীয়রা জানান, ১২ বছর বয়স থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের দুই চোখে ব্যথা হতো। ব্যয়বহুল চিকিৎসা করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রথমে বাম চোখ তিন বছর পর ডান চোখ অন্ধ হয়ে যায় তার। চোখে না দেখলেও বাঁশ ও বেতের কাজ আয়ত্ত করেছেন তিনি।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ছোটবেলায় মাথা গোজার ঠাঁই ছিল না। টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন চোখের রগ শুকিয়ে গেছে। চোখ আর ভালো হবে না বলেছেন চিকিৎসকরা। আমি চোখে দেখি না, তবে সৃষ্টিকর্তা আমাকে কাজ করার শক্তি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু নেওয়া আমি পছন্দ করি না। চোখের আলো হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। তবে হাল ছাড়িনি। কিছু করার অদম্য ইচ্ছা থেকে এ পর্যন্ত এসেছি। কাজ করে খাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। সমাজে সবার সঙ্গে আনন্দ নিয়ে থাকা যায়।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্র বাজারে নিয়ে যেতে পারি না। পাইকাররা বাড়ি থেকে এসে নিয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাই না।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সূচিত্র রায় বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়া যে সমাজের প্রতিবন্ধকতা নয় তা মৃত্যুঞ্জয় বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিজের জীবনকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন তিনি। আমরা অবশ্যই তার জন্য সরকারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!