Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে হিফজ সমাপ্তকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান পৌষসংক্রান্তি ঘিরে কমলগঞ্জে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে সিলেটের স্বাদ-ঐতিহ্য চুঙ্গাপুড়া পিঠা কমলগঞ্জে মনিপুরীদের ১১৬তম শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘নিমাই সন্ন্যাস’ উৎসব বুধবার কমলগঞ্জে হৈরোল ফাউন্ডেশনের গুণীজন সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন কাবিনের জমিতে গড়া শিক্ষালয়: ত্যাগের মহিমায় বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা র‌্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে কমলগঞ্জে এয়ারগান ও গুলি উদ্ধার কমলগঞ্জে বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত বৃদ্ধা শীতের তীব্রতায় অসহায়দের পাশে পুনাক মৌলভীবাজারে ৮০ জনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ মনোনয়ন বাছাইয়ে মৌলভীবাজারে চার আসনে টিকে রইলেন ২৬ প্রার্থী স্মৃতির টানে একত্রিত প্রাক্তনরা, আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনমেলা গভীর রাতে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল পৌঁছে দিলেন ইউএনও আদমপুর ইউনাইটেড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পৌষের শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের ৯২ বাগানের চা শ্রমিক কমলগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল মনিপুরী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তারুণ্যের নবযাত্রা: কমলগঞ্জে লৈশেমপুং ও ইউনেস্কোর বিশেষ আয়োজন কমলগঞ্জে ‘হৈরোল ফাউন্ডেশন’ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন কমলগঞ্জে “পাঙাল সাহিত্য” সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠিত  শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জের ১১৩ গির্জায় উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যে বড়দিন পালিত তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে কমলগঞ্জে বিএনপির স্বাগত মিছিল

কমলগঞ্জের মেয়ে দীপিতা সিনহার বিশ্বজয় !

রিপোটার : / ২৫০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৩

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।।

বিশ্বের প্রখ্যাত একটি বিদ্যাপীঠের নাম কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটিতে মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করে থাকেন। তবে গোটা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা আবেদন করলেও কনকর্ডিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ দেওয়া হয় মাত্র দুটি। এবার এই দুটি স্কলারশিপের মধ্যে একটি অর্জন করেছে বাংলাদেশ, অপরটি রুয়ান্ডা। নি:সন্দেহে বলা চলে এ অর্জন অনেকটা বিশ্বজয়ের মতো।

স্কলারশিপের এই গৌরব অর্জন করেছেন কমলগঞ্জের মেয়ে দীপিতা সিনহা। পড়বেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। স্কলারশিপ বিজয়ী অপর শিক্ষার্থী রুয়ান্ডার রেইন। প্রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ অর্জনকারী প্রত্যেকের জন্য সর্বসাকুল্যে কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ব্যয় করবে প্রায় ৫ কোটি টাকা করে।

মেধাবী দীপিতা সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ ও রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান, গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নমিতা সিনহার জ্যেষ্ঠ কন্যা। দীপিতা বিশ্বজয়ের পর তাদের পুরো পরিবার কানাডার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার তাদের কানাডায় পৌঁছার কথা।

দেশত্যাগের প্রাক্কালে মেধাবী দীপিতা সিনহা জানায়, স্কুল ও কলেজে স্যারেরা আমাকে সব লিডারশিপের দায়িত্ব দিতেন। এটা আমাকে লিডারশিপ সম্পর্কে জানতে বাধ্য করে। তাছাড়া প্রত্যেক মানুষেরই একটা লক্ষ্য থাকে। সেই অনুযায়ী স্বপ্ন লালন করে এবং এগোয়। আমিও আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই। এজন্য আপাতত কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে। সাময়িকভাবে একটু দূরে চলে যেতে হচ্ছে আমার প্রিয় মা-বাবা, প্রিয় সিলেট ও প্রিয় মাতৃভূমি থেকে।

দীপিতা জানান, বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার ইচ্ছা তার প্রবল। অনর্গল কথা বলতে পারেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, কোরিয়ান ভাষায়। এখন ফ্রেঞ্চ ভাষা চর্চা করছি। একের পর এক ভাষা শিক্ষা এটা তার অন্যতম হবি।

দীপিতার মতে, বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। আগের মতো শুধু জাতি-সমাজ নয়, এখন বিশ্বজাতি-বিশ্বসমাজের কি কল্যাণ করা যায় তা নিয়েই ভাবতে হবে।

দীপিতা সিনহার বাবা সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ বলেন, বাবা-মায়ের চোখে সন্তানরা সব সময়ই শিশু। তাই মেয়েকে একা বিদায় দিতে না পেরে আমরা পুরো পরিবার সঙ্গী হয়েছি। তার ভর্তি সম্পন্ন করে দেশে ফিরব।

তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই নিজ নিজ পেশাগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই সন্তানদের তেমন সময় দেওয়া হয় না। তারপরও স্কলারশিপের আবেদনসহ সার্বিক যোগাযোগ অনেকটা সে একাই সম্পন্ন করেছে এবং এর স্বীকৃতিও পেয়েছে। সন্তানের এমন সফলতা শুধু আনন্দের নয়, গর্বেরও- এমন বক্তব্য তার।

দীপিতার মা গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নমিতা সিনহা বলেন, আমার বাবা চন্দ্রমোহন সিংহ একজন প্রবীণ সঙ্গীতজ্ঞ। দীপিতার সঙ্গীতে তালিম শৈশবেই, বাবার হাতে। তারপর ওস্তাদদের কাছে নাচ, গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা শিখেছে। অনেক পুরস্কার ও পেয়েছে। মায়ের মতে, সৃজনশীলতা ও মানবিক মানসিকতা দীপিতার শৈশব থেকেই। পড়াশুনার পাশাপাশি সহপাঠীদের নিয়ে অনেকগুলো নতুন নতুন সংগঠন করেছে। সেসব সংগঠনের মাধ্যমে বেশ কর্মকাণ্ডও করেছে। ক্লাশে, ক্লাবে, সংগঠনে ক্যাপ্টেন-দলনেতা সব সময়ই থাকত। তাকে একজন ভালো ক্ষুদে সংগঠকও বলা যায়।

ডা. নমিতা বলেন, নিজের সারা জীবনের অর্জন নিয়ে যতটা আনন্দিত মেয়ের এটুকু অর্জনে তারচেয়ে শত শতগুণ আনন্দিত। মানবিক মানুষ হোক এটাই প্রত্যাশা।

দীপিতা সিনহা পড়াশুনা সিলেটের ব্লু বার্ড হাইস্কুল, সিলেট অগ্রগামী বালিকা বিদ্যালয় ও এমসি কলেজে। স্কুলজীবনে দীপিতা সব সময়ই ক্লাশ ক্যাপ্টেন ছিলেন। সাইন্স ক্লাবের সদস্য দীপিতা রোবট তৈরিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে পুরস্কৃত হয়। করোনা মহামারির সময়ে সতীর্থদের নিয়ে ‘দুর্বার’ নামের সামাজিক সংগঠন গঠন করে বৃক্ষরোপণ করে। করোনার সময়ে ‘ডোর ইজ অপেন’ নামের মানবিক উদ্যোগ নেয় সতীর্থদের নিয়ে। তারা টানা এক মাস ছিন্নমূলদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করে মানবিক দায়িত্ব পালন করে। পায় ব্যাপক প্রশংসা। স্কলারশিপ পাওয়ার আগে মেধাবী দীপিতা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘ছায়া জাতিসংঘ’ ডিবেটে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই ডিবেটে ‘বেস্ট থিংকার্স’ স্বীকৃতি পান এই মেধাবী শিক্ষার্থী। ইন্টার স্কুল গণিত অলিম্পিয়াডে সেরা হওয়ার পর যান ইংলিশ অলিম্পিয়াডের বিভাগীয় গ্র্যান্ড ফিনালে। আইইএলটিএস এ সর্ব্বোচ্চ স্কোর পাওয়া মেধাবী দীপিতা জাতীয় বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতায় জেলা চ্যাম্পিয়ন হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ থেকে কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অনেকটা ভিন্ন। তারা প্রতিটি সেশনেই খোঁজেন মেধাবী ও সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের। ভর্তিতে প্রাধান্য দেন সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানবিক ও উদ্ভাবনী মানসিকতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের। অনুরূপভাবে বিশ্বের সৃজনশীল-মেধাবীদের ভর্তির প্রথম টার্গেটেই থাকে এ ইউনিভার্সিটি। ফলে প্রতিটি সেশনেই গোটা বিশ্বের অনন্য মেধার শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন ঘটে এর ক্যাম্পাসে। বিশ্বের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির স্কলারশিপের তালিকা অনেকটা লম্বা থাকে; কিন্তু কানাডার মন্ট্রিলের এই ইউনিভার্সিটি এখানেও ব্যতিক্রম। স্কলারশিপের আবেদন সারা বিশ্ব থেকে জমা হলেও দেওয়া হয় মাত্র দুজনকে। এর নাম কনকর্ডিয়া প্রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপ।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!