আব্দুল বাছিত খান॥ শাহিনা আক্তারের জীবনের গল্পটা একটু অন্য রকম। বেশ সুখে চলছিল সংসার। কিন্তু ২০১৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারীতে তার জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায় অসুস্থতায় স্বামীর মৃত্যুতে। এক পুত্র সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন তিনি। কী করবেন, কোথায় যাবেন এসব ভাবতেই কেটে গেছে ২/৩ মাস। এর মধ্যে চলে আসে করোনা মহামারির ভয়াল থাবা। স্থবির হয়ে যায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম। জীবনের ওপর দিয়ে বড় ঝড় বয়ে গেলেও দমে যাননি তিনি। টুকটাক সেলাই এর কাজ জানতেন। চিন্তা করলেন এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে যদি কিছু করা যায়। নিজ বাড়ীতে শুরু করেন সেলাই ও অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়ীক কার্যক্রম। শুরুতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হলেও শাহিনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। নিজের মেধা-শ্রম দিয়ে নারী হয়েও তিনি বর্তমাসে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন সংস্থা থেকে কাজের মুল্যায়ন হিসেবে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
২০১৮ সালে এটুআই প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত উদ্যোক্তা সম্মেলনে দেশ সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। শাহিনা কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের মো: লোকমান মিয়ার কন্যা। কেবল শাহিনা নন, তার মতো লাখো নারী আজ সফল উদ্যোক্তার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত নারী থেকে আজ তারা স্বাবলম্বী নারীতে পরিণত হয়েছেন। গড়ে তুলছেন শিল্প কারখানা, কর্মসংস্থান করছেন লাখ লাখ বেকারের। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এমন অসংখ্য জয়িতা এখন দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করে তুলছেন।