Logo

ধলাইর পানি কমতেই লংগুরপাড়ে ভাঙনের আর্তনাদ: বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাজু দত্ত / ৫৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করার সাথে সাথেই নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ ‘ক্ষত’।

বিশেষ করে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের লংগুরপাড় গ্রামে নদীর পাড় ও প্রতিরক্ষা বাঁধে এমন ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে লংগুরপাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি কমে যাওয়ার পর ভেজা মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। ছবিটিতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে বাঁধের করুণ দশা; নদীর পাড়জুড়ে বিশাল বিশাল ফাটল তৈরি হয়েছে এবং বাঁশের ঝাড় ও গাছপালাসহ মাটির বড় বড় চাঙ্গড় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই পুরো অংশটি ধসে লংগুরপাড় গ্রামের ভেতরের ঘরবাড়ি, গাছপালা ও কৃষিজমি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

লংগুরপাড় গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ধলাই নদীর পানি বাড়লে যেমন বন্যার ভয় থাকে, তেমনি পানি কমলে শুরু হয় এই ভাঙন আতঙ্ক। বাঁধের এই বিশাল ক্ষতগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে আগামীতে সামান্য বৃষ্টি বা নদীর পানির চাপ বাড়লেই গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল দত্ত চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,”এখন নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। সরকারের কাছে আমার আকুল দাবি—যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁধটি সংস্কার করে আমাদের এই চরম দুরদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “ধলাই নদীর পানি কমে যাওয়ার পর লংগুরপাড় গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধে যে বড় ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। জনস্বার্থে এই ভাঙন রোধে অতি দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলাসহ স্থায়ী টেকসই বাঁধ সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

লংগুরপাড় গ্রামের এই ভাঙন ও ফাটলের বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, “ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। আমি দ্রুতই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো)  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং বাঁধটি দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।”

লংগুরপাড় গ্রামের এই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে আর কোনো বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামতের জন্য প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।


ধর্ম
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!