কমলকন্ঠ ডেস্ক।। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬ টায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয় ।
সাপ্তাহিক কমলগঞ্জ সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক এড. সানোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় সাংসদ ড.মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান,উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক এড. আজাদুর রহমান আজাদ, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম প্রমুখ। সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় যখন আসন্ন, তখনই ঘটে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সেই হত্যাকাণ্ড। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয় অনিবার্য জেনে এ দেশকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করার উদ্দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। আর এদের সহযোগিতা করেছিল এ দেশীয় দোসররা।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে গণহত্যা চালায়। নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা। তাই সেসব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয় । প্রেসক্লাব সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ও প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সহ-সভাপতি সাংবাদিক সাব্বির এলাহি, সাংবাদিক পিন্টু দেবনাথ, নির্মল এস পলাশ, আলম আহমেদ, আসাবুজ্জামান ইসলাম শাওন, রাজকুমার সৌমেন্দ্র সিংহ, আকাশ আহমেদ প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় যখন আসন্ন, তখনই ঘটে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সেই হত্যাকাণ্ড।স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সাল থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় জাতীয়ভাবে পালনযোগ্য দিবসের কোন শ্রেণিতে স্থান পায়নি দিবসটি। গত বছরের ৪ ডিসেমবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারীকৃত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে মোট ৮৯ টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের উল্রেখ করা হয়েছে সেখানে ১৪ ডিসেমবর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নেই। বক্তারা অবিলম্বে দিবসটিকে জাতীয় দিবসের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির দাবী জানিয়েছেন।