মোঃ মালিক মিয়া :
কমলগঞ্জ মাধবপুর ইউপি নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবলীগ নেতা শাহ আলম কর্তৃক হামলার শিকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের ক্যামেরাপার্সন হোসেন বক্ত এর অপহরণ ও মারধরের ঘটনার মামলায় মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্যেট আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন চাইলে বিঞ্জ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
জানা য়ায়, বিগত ৫ জানুয়ারি সিলেট বিভাগের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে নির্বাচন কমিশনের ইস্যুকৃত গাড়ি ও পাস নিয়ে বের হলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে পথিমধ্যে ঝপলারপাড় এলাকায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসিদ আলী’র নির্দেশে হোসেন বক্তকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আসিদ আলী পরবর্তীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ডিসিতে সিপিজে এশিয়ার প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী স্টিভেন বাটলার ২৫ আগস্ট এক বিবৃতিতে,হোসেন বক্তকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নির্বাচন কাভার করার সময় যে উল্লেখযোগ্য মাত্রার বিপদের সম্মুখীন হতে পারে। কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের জবাবদীহিতার আওতায় আনার দাবী জানান। এছাড়া এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)।
ঘটনায় হোসেন বক্ত বাদী গত ২৮/৮/২৪ ইং কমলগঞ্জ থানায় মাধবপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শাহ আলম ও নামীয় ৯ জন সহ গংকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২৪ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্যেট আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন চাইলে বিঞ্জ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, মাধবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসিদ আলী ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে নন্দরানী চা বাগানের মার্ডার মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী সহ চুরি, ডাকাতি, বালু মহাল লুট, নারী নির্যাতন সহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মামলার বাদী হোসেন বক্ত অভিযোগ করেছেন যে, তার মামলার অন্য আসামীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে এবং মামলা তোলে নেয়ার জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। যার কারনে জীবনের নিরাপত্তাহীনতা সহ আতংকে ভোগছেন। মামলার অন্য আসামীদের দ্রত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।