Logo
সংবাদ শিরোনাম :
শমশেরনগর হাসপাতালে দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আল্পনার সাত রঙে সেজেছে বিটিআরআই সড়ক কমলগঞ্জে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিনে যুবদলের দোয়া মাহফিল সিলেটের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কমলগঞ্জে বেলা’র প্রচারাভিযান ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত কমলগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মাধবপুর চা বাগান থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সাংবাদিক তুহিন হত্যা‘র প্রতিবাদে কমলগঞ্জে মানব বন্ধন কমলগঞ্জে গলাকেটে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা তীরের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা কমলগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবসে আলোচনা সভা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত । কমলগঞ্জ উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ গঠন দারিদ্রতার বেড়াজালে বন্দী অনন্যার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন কমলগঞ্জে যুবতীর আত্মহত্যা সীমাহীন ভোগান্তিতে টমেটো গ্রাম বনগাঁও এর কৃষকরা চিরনিদ্রায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ বাড়িতে গিয়ে জন্ম সনদ ও শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান

আল্পনার সাত রঙে সেজেছে বিটিআরআই সড়ক

রিপোটার : / ১৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজার জেলাকে “চায়ের রাজধানী” বলা হয়, বিশাল চা বাগান এবং উন্নত মানের চায়ের জন্য এই অঞ্চলের খ্যাতি রয়েছে। তবে এই রাজ্যে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন এক বিস্ময় আল্পনায় মোড়া একটি সড়ক, যা মুগ্ধ করছে পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটক সবাইকে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুপাশজুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা বাগানের মধ্যে আঁকা এই আল্পনাগুলো যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব শিল্পসম্মত মিলন ঘটিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনের উদ্যোগে এই সড়কজুড়ে আঁকা হয়েছে মনোমুগ্ধকর আল্পনা।

উপজেলার পর্যটনের অন্যতম ব্যস্ততম ভানুগাছ রোডের বিটিআরআই মোড় থেকে শুরু করে বিটিআরআই সংলগ্ন ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে আল্পনার বৈচিত্র্য নজর কাড়ছে স্থানীয়রা ও ভ্রমণ পিপাসুদের। রাস্তার দুপাশজুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা বাগানের মধ্যে আঁকা এই আল্পনাগুলো যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব শিল্পসম্মত মিলন ঘটিয়েছে। আলপনার রঙে রঙিন এই রাস্তা শুধু চলার পথ নয়, হয়ে উঠেছে আনন্দ, ভালোবাসা ও সৌন্দর্য খোঁজার একটি গন্তব্য। শিল্প আর প্রকৃতির এক মোহনীয় মেলবন্ধনে রাস্তার দুই পাশে সুশৃঙ্খল সবুজ চা-বাগানের নীরব নিসর্গের মাঝখানে আল্পনার ছন্দের ঢেউ। এখানে লাল, নীল, হলুদ, সাদা রঙে আঁকা আল্পনাগুলো যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়েছে নকশার মতো। শুধু দেখার নয়, এটি এখন একটি ‘ফটোস্পট’ হয়ে উঠেছে স্থানীয় ও ভিনজেলা থেকে আগত পর্যটকদের কাছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমেছে নানা বয়সী মানুষের। অনেকে মোবাইল বা ক্যামেরা হাতে দৃষ্টিনন্দন এই দৃশ্যকে ধরে রাখছেন ছবিতে। কেউ হাঁটছেন ধীরপায়ে, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন রঙিন কোনো নকশার পাশে, কেউ আবার শিশুকে সঙ্গে নিয়ে শেখাচ্ছেন ‘এই হলো আমাদের সংস্কৃতি।’

স্থানীয়রা জানান,এই রাস্তাটি শ্রীমঙ্গলের পর্যটন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটক, প্রশাসন, সাধারণ মানুষ’সহ সবার কাছেই এই রাস্তার গুরুত্ব অনেক। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যেভাবে সৃজনশীলভাবে আর্ট করা হয়েছে, তা দেখে মনে হয়েছে এটি শুধু রাস্তা নয়, যেন একটি স্থায়ী শিল্পকর্ম। এখানে ছবি তুলে বহু বছর সংরক্ষণ করে রাখার মতো অবস্থা, এখনে এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা চাকরিজীবী শারমিন জাহান জানান, শনিবার আমরা শ্রীমঙ্গলে এসেছি। বের হলাম চা বাগান দেখতে। হঠাৎ এই রাস্তাটি দেখে ছবি তুলতে লাগলাম। আমার মেয়ে এখন ছবি তোলাতেই ব্যস্ত। এর মধ্যেই ঝুম ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো, বৃষ্টিতে ভিজেই তারা ছবি তুলছে।

তিনি বলেন, এই রাস্তাটি অসাধারণ সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, এভাবে আরও কয়েকটি রাস্তাও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলা হোক। এখানকার মানুষ, প্রকৃতি হোটেল মোটেল সবগুলো খুবই সুন্দর। আমরা আবার ছুটি পেলে এখানে আসবো।’

শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মো: কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, ‘দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন মৌলভীবাজারে। তাদের প্রথম দেখার স্থান হয় কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা। এখানকার উঁচু-নিচু পাহাড়, চা-বাগান, পান বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি, বিটিআরআই, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, ক্যামেলীয়া লেক সহ বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলো মুগ্ধ করে পর্যটকদের। পর্যটকদের জন্য আমরা সবসময় ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান আর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীববৈচিত্র্েযর এক অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল। এই পর্যটন নগরী সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশবিভুঁইয়েও সমানভাবে সমাদৃত। চা বাগানের পাশাপাশি হ্রদ, হাওর, উঁচু নিচু পাহার, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এই স্থানটির নাম শ্রীমঙ্গল এখানকার প্রতিটি পথ, প্রতিটি গাছ, এমনকি প্রতিটি বাতাসেও মিশে আছে সৌন্দর্য ও আতিথেয়তার স্পর্শ। আমাদের চেষ্টার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যকে আরও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা, যেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা শ্রীমঙ্গলে এসে শুধু নয়নে নয়, হৃদয়ে ধারণ করেন এক মুগ্ধ অভিজ্ঞতা। পরিচ্ছন্নতা, নান্দনিকতা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা শ্রীমঙ্গলকে গড়ে তুলতে চাই এমন এক শহর, যেখান থেকে কেউ ফিরে না যান মুগ্ধতা আর ভালোবাসা ছাড়া।’

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)-এর পরিচালক ড. মো: ইসমাইল হোসেন বলেন,‘ রাস্তাটি চমৎকার সৌন্দর্যের রূপ নিয়েছে। এটি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে নিঃসন্দেহে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চলমান থাকলে শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য আরও বিকশিত হবে।’


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!