কমলকন্ঠ ডেস্ক ।।
মাত্র ৫/৬ বছর আগে যার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ছিল রিক্সা সেই মুহিত মিয়া এখন কোটিপতি । বিগত সরকারের আমলে ভেজাল মসলা ও ঘি এর ব্যবসা করে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা ।
এই অবৈধ ব্যবসায়ী মুহিত মিয়া আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার কাহিনী নিয়ে আজকের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন :-
মুহিত মিয়ার বাড়ী কমলগঞ্জ উপজেলায় শমশেরনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে। তার পিতার নাম পিতা কনদু মিয়া । ৮ শতক জমিতে শুধু ভিটে ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। মাত্র ৫/৬ বছর আগেও রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিগত সংসদ নির্বাচনের পর কৃষি মন্ত্রী হন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ। মুহিত মিয়া কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ ও তার ভাইদের মন জয় করে হয়ে যান তাদের ভাগিনা। এর পর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুস শহীদের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শমশেরনগর রেলস্টেশনে পাশের লালগুদামের গোডাউনের বিপরীত দিকে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা জোর পূর্বক দখল করে ঘর তৈরী করে দোকানকোটা ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া পরিবেশে মসলার ও ঘি তৈরী করে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করতে শুরু করেন। এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমেই কয়েক বছরে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। রেলের জমি উদ্ধার ও অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্টান উচ্ছেদের জন্য বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালিত হলেও মন্ত্রীর ভাগিনা পরিচয়ের কারণে প্রতিবারই তিনি পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মুরগীর ফিড দিয়ে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া তৈরী করে বাজারজাত করে আসছেন। বিসমিল্লাহ মসলা মিলের মাধ্যমে মধু ব্র্যান্ড ১২ মসলা, মধু ব্র্যান্ড মিক্স মসলা, সশ, রুবি মসলা, হিরো বাটার, হিরো ঘি, হিরো ক্রিম, তীর ঘি, নুরজাহান ঘি, নুরজাহান মসলা বিভিন্ন কোম্পানির নামে প্রস্তুত করে বাজারজাত করেন। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বিহীন তাদের তৈরীকৃত এসব নিম্নমানের ভেজাল পণ্যসমুহ মৌলভীবাজার, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল, নবীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, আদমপুর সহ বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেণীর মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর ডিলারের মাধ্যমে বাজারজাত হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এই অবৈধ ব্যবসার আয় দিয়ে মুহিত মিয়া রাধানগর গ্রামে তার পৈত্রিক ভিটায় তৈরী করেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি । হয়েছেন প্রচুর জমি জমার মালিক । সব অনিয়ম স্থানীয় মানুষ জনের চোখের সামনে ঘটলে ও মুহিতের প্রভাবের কারনে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। আর যদিওবা কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছে তার উপর নেমে আসতো হামলা-মামলার খড়গ।
প্রায় ৩ বছর পূর্বে তৎকালীন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক মুরগীর খাদ্য মিশ্রিত করে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া জব্দ করে কারখানা সীলগালা করে দেন। পরে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ব্যবসাটি জমজমাট করে তুলেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, মানুষের খাবারের অযোগ্য পণ্য সমুহ বাজারজাত করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে মুহিত ও তার সহযোগিরা আর্থিকভাবে লাভবান হলে ও মানুষজনের নানা রোগব্যাধিসহ প্রাণহানী ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অচিরেই প্রসাশনিক ভাবে সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে রেলেওয়ের জমি উদ্ধারসহ নিন্মমানের মসলা ও ঘি এর কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মুহিত মিয়া ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্টজনরা বলেন, তাদের কোন অবৈধ ব্যবসা নেই। সব কাগজপত্র ঠিক আছে। রেলওয়ের জমিও লিজ আছে। একটি কুটক্রী মহল তার ব্যবসাীয়ক সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, সরেজমিন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।