কমলকন্ঠ ডেস্ক ।।
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মৌজায় ধলাই নদীর তিনটি স্থানে অবৈধভাবে উত্তোলিত ১ লক্ষ ১৮ হাজার ঘনফুট বালুসহ সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলনে ধলাই পাড় এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি। রোববার উত্তোলিত বালু জব্দ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডি.এম. সাদিক আল শাফিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মহল সকল বাঁধা উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে ধলাইপাড় এলাকার কয়েকটি স্থান থেকে কোনো রকমের লিজ ছাড়াই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাণিজ্য করে আসছেন। তাদের ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বসে পড়ছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক বসতবাড়ী। অতিরিক্ত বহনকারী ভারী যানবাহনের কারনে ধ্বসে পড়েছে সড়কপথ। ড্রেজার মেশিনের উচ্চ শব্দে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ।
শুধু উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইরপার এলাকাই নয়, আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া ও রহিমপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর, চৈত্রঘাট এলাকা থেকেও দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মাধ্যমে প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেট লাভবান হলেও এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
তাছাড়া বড় বড় ট্রাকে অতিরিক্ত বোঝাই করে বালু পরিবহনের ফলে ভানুগাছ-মাধবপুর আঞ্চলিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কোথাও কোথাও দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে তাদেরকে হুমকি, ধামকি দেওয়া হয়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে, রোববার দুপুরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসব অবৈধ বালু জব্দ করেন। অভিযানে তিনটি স্পটে উত্তোলিত বালু ও বালু উত্তোলনের কিছু পাইপও জব্দ করা হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডি.এম. সাদিক আল শাফিন বালু জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাধবপুর মৌজায় ধলাই নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ও পাইপ জব্দ করা হয়েছে। এখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে জব্দকৃত বালু শীঘ্রই নিলাম দেয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, জব্দকৃত বালু বিধিমোতাবেক দ্রুতসময়ে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।