কমলকন্ঠ ডেস্ক ।।
টানা বর্ষণ ও সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত টমেটোর চারার। বন্যায় পানিতে উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর,ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫ একর জমিতে ফলনকৃত গ্রাফটিং পদ্ধতির টমেটো চারা তলিয়ে যায়। ফলে বিরাট অংকের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এসব এলাকার অর্ধ শতাধিক চারা উৎপাদনকারী উদ্যোক্তা । যাদের অনেকেই তাদের এই কৃষি খামারগুলি পরিচালনা করছেন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ নিয়ে । পুরনো ঋণের টাকা পরিশোধ করে নতুন করে আবার তাদের ক্ষতিগ্রস্থ খামার গুলিকে কিভাবে আবার দাড় করাবেন সেই চিস্তায় এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।
এদিকে খামার গুলিতে চারা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ায় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকা পাঁচ শতাধিক শ্রমিক এখন বেকার অবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। অপরদিকে এই গ্রাফটিং পদ্ধতির চারা কিনে যে সকল টমেটোচাষী তাদের জমিতে আগাম টমেটো চারা লাগিয়েছিলেন তারাও হয়েছেন সর্বশান্ত । এসব মিলিয়ে এবারের বন্যায় এই টমোটো ফসলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা ।
‘গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা উৎপাদনে’ কমলগঞ্জ উপজেলার একজন সফল উদ্যোক্তা আং করিম সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে জানান, বন্যায় পানিতে শুধুমাত্র তার খামারের ১২০শতক জায়গার ফলনকৃত দেড় কোটি টাকার গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটোর চারা বিনষ্ট হয়েছে । তার খামারের উৎপাদিত উৎপাদিত চারা নিজ জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের আরো আট থেকে দশটি জেলায় সরবরাহ করে থাকেন । অনেকেই মৌসুম শুরুর আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দিয়েছিলেন। বন্যায় চারা বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতেও পারবো না। এতে এবছর টমোটোর উৎপাদনে ঘাটতি ও বিলম্বিত উৎপাদনের ক্ষতিগ্রস্থ হবেন কৃষকরা । সরকারী সহযোগীতা না পেলে তারা আবার উঠে দাঁড়াতে পারবেন না । তাই তাদের এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হলে অনতিবিলম্বে উদ্যোক্তাদের পুরনো ঋণের সুদ মওকুফ ও নতুন করে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিধ্বস্থ অর্থকরী এই কৃষি খাতকে র্পূণজীবিত করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন ।
আলাপকালে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবদাল হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আং করিমসহ ক্ষতিগ্রস্থ সকল উদ্যোক্তাকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন ইতিমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন গ্রাফটিং চারার খামার পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তারা যাতে করে তিনি পুনরায় ঘুরে দাড়াতে পারেন তার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগীতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।