Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ছাত্র অধিকার পরিষদের ৬ মাসের আংশিক কমিটি অনুমোদন রঙে-ভক্তিতে মুখর শ্রীশ্রী বিষ্ণুপদ ধাম, যোগ দিলেন চীনা নাগরিকরা শ্রীমঙ্গলে শ্রীশ্রী জগদ্বন্ধু আশ্রম পরিদর্শনে ভারতের সহকারী হাই-কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ ঝুমুর নাচে, আবিরের ছোঁয়ায় আলীনগরে ফাগুয়ার উচ্ছ্বাস ভাতার কার্ডের আশায় চার বছর, সমাজসেবা কার্যালয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি সম্মাননা ও ইফতারে প্রাণবন্ত কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আত্মনির্ভরতার পথে ৩০ নারী এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ভুরভুরিয়া ছড়ায় পরিষ্কার অভিযান কমলগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ নিরালা পুঞ্জিতে ৫ হাজার পুণ্যার্থীর মিলনমেলা ।। সম্পন্ন হলো প্রেসবিটারিয়ান বার্ষিক সভা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিভূত এমপি হাজী মুজিব পিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মাঠে নেমেছেন ‘মুঈদ আশিক চিশতী’ হেলিকপ্টারে আগমন, হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সাত পাকে বাঁধা চীনা কনে ও বাংলাদেশি যুবক কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি, রোগীসেবায় নতুন প্রত্যাশা শপথের পর বাড়িতে নয়, হাসপাতালে ছুটলেন এমপি হাজী মুজিব মধ্যরাতে ভৈরববাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তিনজনের কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস পালিত প্রেমের ডাকে চীন থেকে রাজনগর, হেলিকপ্টারে কনের আগমন শ্রীমঙ্গলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এ বিনামূল্যে ৪ শতাধিক মানুষ পেলো চিকিৎসাসেবা কমলগঞ্জে মাহে রমজান উপলক্ষে অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

হাতিকে পোষ মানানোর প্রশিক্ষণ

রিপোটার : / ৪৬৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২২

কমলকন্ঠ ডেস্ক।। বন্যপ্রাণী হাতি। আকৃতিগত দিক থেকে প্রাণীদের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। বন্যহাতিকে মানুষ ভয় পায়, কেননা এগুলো পাহাড় থেকে বস্তিতে নেমে এলে মানুষের জানমালের ক্ষতি করে। তবে এ বন্যপ্রাণী হাতিকেই মানুষ (মাহুত) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পোষ মানায় এবং বিভিন্ন কাজ করিয়ে টাকা রোজগার করে। কাজ করার সামর্থ্য অনুযায়ী হাতির মূল্য ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা হয়ে থাকে। আবার হাতির দাঁতও লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হয়। পালিত হাতির বাচ্চা জন্মের আড়াই বছর থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাকে পোষ মানাতে হয়। বেশ ব্যয়সাপেক্ষ এ কর্মযজ্ঞটি চলে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি হাতি শাবককে পোষ মানানো (স্থানীয় ভাষায় হাঁদানি) চলছে। সরেজমিন সোমবার উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের কাটাগাং গহীন জঙ্গল এলাকায় দেখা যায়- হাতির বাচ্চাকে পোষ মানানো হচ্ছে। এ কর্মযজ্ঞ দেখতে সেখানে হাজারও আবালবৃদ্ধবণিতা ভিড় করেন। হাতি হাঁদানো কাজের কয়েকটি ধাপের প্রথম ধাপ শুরু হয় সোমবার দুপুর আড়াইটায়। প্রশিক্ষিত ২টি হাতি (শাবকের মা ও বোন) নিয়ে মাস্টারের (প্রশিক্ষক) নেতৃত্বে ৫ জন সহকারী প্রশিক্ষক ও কয়েকজন সহকারীসহ ১০-১২ জন মাহুতের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণ কাজ চলে। যথাযথ নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত হাতিগুলো দিয়ে বাচ্চাটিকে বেষ্টন করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে বেঁধে ফেলা হয়।

বাচ্চাটিকে বাঁধার কৌশলটাও ব্যতিক্রম। আগে থেকেই মাটিতে গাছের চারটি খণ্ড পুঁতে রাখা হয়। নির্ধারিত স্থানে যাওয়া মাত্র প্রথমে বাচ্চার গলা রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। একই সঙ্গে সামনের দুই পা সামনের গাছের সঙ্গে এবং পেছনের দুই পা পেছনের গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। এ সময় বাচ্চা গগনবিদারী চিৎকার করতে থাকে এবং সমস্ত বাঁধন ছিন্ন করে মুক্ত হবার প্রাণপণ চেষ্টা করে। মা হাতি সংযত রাখাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাচ্চাকে বাঁধতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে।

যদিও এ কাজে ঘণ্টার উপরে সময় লাগার কথা। এ কাজটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আর এর মধ্য দিয়েই হাতি হাঁদানোর প্রথম দিনের মূল কাজ শেষ হয়। দ্বিতীয় দিন বাচ্চাকে ছেড়ে প্রশিক্ষিত দুটি হাতি সহযোগে কোনো এক ছড়ায় নিয়ে গোসল করানোসহ ৪-৫ ঘণ্টা ঘুরিয়ে আবার নির্ধারিত স্থানে এনে বেঁধে রাখা হয়। এভাবে চলবে তিন মাস। এ সময়ে বাচ্চার পাগুলো খাল পড়ে ঘা হয়, ঘা থেকে পচন ধরে। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা দেওয়া হয় নিয়মিত।

এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাচ্চাকে বিভিন্ন সংকেত বুঝিয়ে ও শিখিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন কাজের কৌশল। প্রশিক্ষণ শেষ হলেই হাতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ। প্রশিক্ষিত হাতি দিয়েই গাছ টানা, পড়ে যাওয়া গাড়ি তোলা, অতিথিকে অভিবাদন জানানো, সার্কাসে খেলা দেখানোসহ বিভিন্ন কাজ করানো হয়।

মাহুত আহমদ আলী পংকী জানান, মাস্টার (প্রশিক্ষক) আকবর আলীর নেতৃত্বে সহকারী প্রশিক্ষক রহমত আলী, ইছমাইল আলী, ফুলু মিয়া এবং আহমদ আলী পংকীসহ কয়েকজন সহকারী এ প্রশিক্ষণ কাজে অংশ নিয়েছেন। কাজ সম্পন্ন করতে ২-৩ লাখ টাকা খরচ হবে।

মাস্টার (প্রশিক্ষক) আকবর আলী বলেন, তিন মাস পরেও প্রশিক্ষণের আরও কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। তা সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই হাতিকে দিয়ে যেকোনো কাজ করানো যাবে।

হাতির মালিক উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর নিবাসী নিপার রেজা জানান, হাতি প্রশিক্ষণের দৃশ্যটি দেখতে মানুষের জন্য আনন্দদায়ক হলেও প্রক্রিয়াটি বাচ্চার জন্য কষ্টদায়ক। তবুও তাকে পোষ মানানোর এ কাজটি না করলে হাতিটি বন্যহাতির মতো আচরণ করবে। মানুষের জান-মালের ক্ষতি করবে। প্রশিক্ষণের জন্য এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি এখনো বাংলাদেশে নেই। প্রশিক্ষণকালে অসুস্থতার কারণে বাচ্চাকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি ১৫-২০ হাজার টাকার ওষুধও খাওয়াতে হয়।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!