Logo

মৌলভীবাজারের পশুর হাটে দেশি পশুর সমাহার, চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি

কমলকন্ঠ ডেস্ক / ৩৩ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পশুর হাট। হাটে দেশীয় পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও, এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, বাজারে পশুর সমাগম বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা এখনো সময়ের অপেক্ষায়।

চাহিদার তুলনায় পশুর মজুদ বেশি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ৭৪ হাজার ৫৮৪টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৮১টি গরু, ১ হাজার ৪৪৬টি মহিষ, ৩০ হাজার ৮২২টি ছাগল ও ২ হাজার ৮৩৫টি ভেড়া রয়েছে। জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২টি। সেই হিসেবে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩ হাজার ১১২টি পশু বেশি মজুদ রয়েছে।

হাটের চিত্র ও দাম নিয়ে ভিন্নমত আদমপুর, টেংরা, ব্রাহ্মণবাজার, শমশেরনগর ও ভৈরবসহ জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে প্রচুর পশুর আমদানি হয়েছে। তবে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাইছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অনেক ক্রেতা জানান, গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা সহনীয় মনে হলেও, আকারভেদে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি।

সিয়াম চৌধুরী নামে এক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, একটি গরুর দাম শুরুতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। অনেক দরদাম করার পর ৯৫ হাজার টাকায় কিনেছি, তবে বাজারদর অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা হওয়ার কথা ছিল।

খামারিদের ভাষ্য অন্যদিকে, গরুর দাম নিয়ে হতাশ খামারিরা। তাদের দাবি, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু হাটে সেই অনুপাতে দাম মিলছে না। খামারি সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার খামারের আটটি গরুর মধ্যে দুটি বিক্রি করেছি, কিন্তু আশানুরূপ দাম পাইনি। ক্রেতারা অনেক কম দাম বলছেন, যা আমাদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে জেলার হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনাও তত গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি। প্রতিটি হাটে পশু পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম থাকবে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু অন্য জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে হাটগুলোতে কৃষক ও খামারিদের পাশাপাশি স্থানীয় পাইকারদের সক্রিয় উপস্থিতিও দেখা গেছে। তাঁরা গ্রামীণ হাট থেকে গরু কিনে বড় বাজারে বিক্রি করছেন।


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!