Logo

পৌষের শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের ৯২ বাগানের চা শ্রমিক

Reporter Name / ৬২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাজু দত্ত।।

পৌষের মাঝামাঝিতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার জনজীবন। হাড়কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ৯২টি চা-বাগানের খেটেখাওয়া চা-শ্রমিকরা। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকাল থেকে চা-বাগানে কাজে নামতে হচ্ছে তাঁদের। অথচ শীত থেকে রক্ষার মতো পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই অধিকাংশ শ্রমিকের।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শ্রীমঙ্গলে সকাল ৯টায় এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার তাপমাত্রা রেকর্ড এ ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সূর্যের দেখা না মেলা ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। গাছগাছালিতে ঘেরা চা-বাগান এলাকায় ঠান্ডার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। এই পরিবেশেই অপ্রতুল শীতবস্ত্র পরে কাজ করছেন চা-শ্রমিকরা। ফলে অনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়।

চা-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে তাঁদের কষ্ট বহুগুণে বেড়ে যায়। বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র দেওয়া হয় না। স্বল্প আয়ের কারণে নিজেরাও গরম কাপড় কিনতে পারেন না। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডায় ঘুমানো কষ্টকর হয়ে ওঠে। শীত নিবারণের জন্য কেউ ঘরের ভেতরে বা বাইরে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহান, কেউবা বস্তা বিছিয়ে কোনোরকমে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক গীতা রবিদাস ও মায়া রবিদাস বলেন,‘এই শীতে কাজ করা খুবই কষ্টকর। আমরা কোনো শীতবস্ত্র পাই না। ঠান্ডায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাগানের শ্রমিকদের অবস্থা সত্যিই করুণ।’

চা-শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন বলেন, ‘প্রতিবছর শীত এলেই চা-শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ে। মৌলভীবাজার এমনিতেই শীতপ্রবণ এলাকা। জেলার ৯২টি চা-বাগানের শ্রমিকদের অধিকাংশেরই পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই। প্রতিদিনই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকেরা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা চরম কষ্টে আছেন।’

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে শীতের দাপট বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা একই রকম থাকতে পারে।’

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। কেউ কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরছেন।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘শীতের সময় সবাইকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি।’

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,‘সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কেউ আবেদন করলে তাদের শীতবস্ত্র দেওয়া হবে।’


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!