Logo

চা শ্রমিকদের নতুন মজুরি প্রত্যাখান করেছে একটিপক্ষ

Reporter Name / ৬৫৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। চা বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশীয় চা সংসদ মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মজুরি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে প্রফিডেন্ড ফান্ড অফিসে বৈঠক শেষে দু’পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও চা শ্রমিক সংঘসহ একাংশ প্রত্যাখান করে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ করেছে।

জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১০২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বৃদ্ধি করে সর্ব্বোচ্চ মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উৎসব বোনাসে ৪৫ দিনের মজুরির স্থলে ৪৭ দিন করা হয়েছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পূর্বের চুক্তি স্বাক্ষরেরও দীর্ঘ ২২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর। দ্বিপাক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এই চুক্তি বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সনের জানুয়ারী থেকে। চুক্তিতে বাংলাদেশীয় চা সংসদ এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন তাহসিন এ চৌধুরী, আলতামাস হাসান, মো. সেলিম রেজা, রিয়াজ উদ্দীন প্রমুখ। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, পরেশ কালিন্দি, নৃপেন পাল, পঙ্কজ এ কুন্দা, ধনা বাউরী প্রমুখ।

তবে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে শমশেরনগর, কানিহাটি, আলীনগর চা বাগানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে অযৌক্তিক এই চুক্তি প্রত্যাখানের দাবি জানান। শমশেরনগর চা বাগান জাগরন যুব ফোরামের আহ্বায়ক মোহন রবিদাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিক পক্ষের স্বার্থের এই চুক্তির মধ্যদিয়ে শ্রমিকদের ঠকানো হয়েছে। বর্তমানে ২ কেজি চালের দামই ১২০ টাকা, আর চা শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে মাত্র ১৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি মোটেও বাস্তবসম্মত হতে পারে না।

এদিকে ১২০ টাকার মজুরি চুক্তিতে প্রত্যাখান জানিয়ে মৌলভীবাজার চা শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী ও যুগ্মআহ্বায়ক হরিনারায়ন হাজরা শুক্রবার এক বিবৃতি জানান, সংঘের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরে মজুরি বোর্ডের কাছে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা দাবি করা হয়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন চা সেক্টরে সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড মজুরি নির্ধারণের কাজ অগ্রসর করে চলেছেন, সেরকম সময়ে কোন স্বার্থে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমকে কার্যত নিস্ত্রিয় করে অতীতের ধারায় দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি করা হলো? তারা এই চুক্তি প্রত্যাখান করেছেন বলে দাবি জানান।

মনু-ধলই ভ্যালী সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর সবার সম্মতিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সম্প্রতি চা শ্রমিকরা আন্দোলনমুখর হয়ে উঠায় সবদিক বিবেচনা করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তারা বলেন, সম্পাদক রামভজন কৈরী অসুস্থ্য থাকায় চুক্তি স্বাক্ষরকালীন সময়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি।


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!