মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়মিত তদারকির অভাব, শিক্ষকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে অনীহা এবং সদ্য সমাপ্ত বৃত্তি পরীক্ষায় নজিরবিহীন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনামুর রহিম বাবরের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ২০২২ সালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন বদলি বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন সংসদ সদস্যের প্রভাবে তিনি শাস্তি এড়িয়ে একই স্থানে বহাল থাকেন। সরকার পরিবর্তনের পর লবিংয়ের মাধ্যমে নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে গত ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে তিনি কমলগঞ্জে যোগদান করেন। তার আগমনের পর থেকেই উপজেলার ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ধস নামে।
গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৬৫ জন অংশগ্রহণ করে; অর্থাৎ শিক্ষা অফিসের সাথে সমন্বয়হীনতার কারণে ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষা কেন্দ্রে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন, যা নিয়মনীতির পরিপন্থী। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে এক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষককেই ‘হল সুপার’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ছবি তুলতেও নিষেধ করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে উপজেলার শিক্ষকরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনেও তারা ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারছেন না।
রূপালী ব্যাংক কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক প্রমোদ সিনহা জানান, পূর্ববর্তী কর্মকর্তারা ঋণের ফরমে স্বাক্ষর করলেও বর্তমান কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে কোনো শিক্ষকের ঋণের আবেদনে স্বাক্ষর করছেন না। এছাড়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি মৌখিক ‘ডেপুটেশন বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে এনামুর রহিম বাবর জানান, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি। যার সন্তান পরীক্ষার্থী ছিল, তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হল সুপার হতে বাধা নেই, কারণ তারা কক্ষে প্রবেশ করেন না। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, জিপি ফান্ড থেকে ঋণ নিতে চাইলে আমি দ্রুত স্বাক্ষর করছি। তবে অন্যান্য ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে আমার স্বাক্ষর করার নিয়ম নেই।