Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে বরই চাষে মডেল আজাদুর রহমান, বদলে দিচ্ছেন এলাকার কৃষিচিত্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণে এগিয়ে এলো কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের কমলগঞ্জে কোয়াব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শীতের রাতে উষ্ণতার ছোঁয়া: আলিনগর চা বাগানে শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ এক যুগ পূর্তিতে মানবতার হাতছানি শমশেরনগর সার্বজনীন মহাশ্মশানঘাটে শীতবস্ত্র বিতরন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময় পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি কি ? শতাব্দী পেরিয়ে ঐতিহ্যের ধারা—পৌষ সংক্রান্তিতে কমলগঞ্জে ১১৬তম ‘নিমাই সন্ন্যাস’ উৎসব অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে হিফজ সমাপ্তকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান পৌষসংক্রান্তি ঘিরে কমলগঞ্জে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে সিলেটের স্বাদ-ঐতিহ্য চুঙ্গাপুড়া পিঠা কমলগঞ্জে মনিপুরীদের ১১৬তম শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘নিমাই সন্ন্যাস’ উৎসব বুধবার কমলগঞ্জে হৈরোল ফাউন্ডেশনের গুণীজন সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন কাবিনের জমিতে গড়া শিক্ষালয়: ত্যাগের মহিমায় বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা র‌্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে কমলগঞ্জে এয়ারগান ও গুলি উদ্ধার কমলগঞ্জে বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত বৃদ্ধা শীতের তীব্রতায় অসহায়দের পাশে পুনাক মৌলভীবাজারে ৮০ জনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ মনোনয়ন বাছাইয়ে মৌলভীবাজারে চার আসনে টিকে রইলেন ২৬ প্রার্থী স্মৃতির টানে একত্রিত প্রাক্তনরা, আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনমেলা

কমলগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা ।। পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি সংকট।।

রিপোটার : / ৯৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৪

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ::
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর ছয়টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনদিনেও বন্যার তেমন উন্নতি হয়নি। গত বুধবার রাতে নতুন করে ধলাই নদীতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। উজানে কিছুটা পানি নামলেও নি¤œাঞ্চলে অবনতি দেখা দিচ্ছে। পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের পানিবন্দী লাখো মানুষের খাদ্য সংকট ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে সরকারি উদ্যোগে ও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হলেও পর্যাপ্ত নয় বলে অনেকে দাবি করছেন। পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, অনেক জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন।
কৃষকরা জানান, ভয়াবহ বন্যায় আধাপাকা আউশ ধান, আমন ক্ষেত, ধানের চারা, মাছের খামার, মোরগের খামার, গো-খাদ্য, পুকুরের মাছ ও সবজিক্ষেত সহ বিস্তীর্ণ এলাকা তিন থেকে চার ফুট পরিমাণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বুধবার বিকালে উজানের আদমপুর, ইসলামপুর ইউনিনে পানি কিছুটা কমতে থাকলেও সন্ধ্যায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ধলাই নদী বিপদসীমা অতিক্রম করে। আবারো বন্যার পানি নামতে শুরু করে। এতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে। বন্যায় নি¤œাঞ্চলের আলীনগর, শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নে একরকম জলাবদ্ধতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে।
পতনঊষারের বন্যার্ত শেরওয়ান আলী, আক্তার মিয়া বলেন, বন্যার কারণে বসতঘরে পানি আসায় বিশেষত গবাদি পশু ও হাঁসমুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। ইসলামপুরের স্কুল শিক্ষিকা অনামিকা সিনহা বলেন, নদীভাঙ্গনের ফলে ঘরের মধ্যে প্রায় হাঁটু পানির মতো প্রবল ¯্রােত দেখা দেয়। এতে ঘরের জিনিসপত্র অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দু’দফায় এভাবে বন্যায় কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে কমলগঞ্জের ৪টি ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। বুধবার সন্ধ্যায় রহিমপুর ইউনিয়নের বড়চেগ এলাকায় ধলাই নদীতে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়।
কমলগঞ্জের ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম বন্যা আক্রান্ত। শতাধিক পুকুরে মাছ ভেসে গেছে। ৬ হাজার হেক্টর আমন ও ২০০০ হেক্টর আউস ধান নিমজ্জিত। ৩৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ৩টি হাইস্কুলও বন্যা কবলিত।
তবে জানা গেছে, ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর গোলের হাওর, কানাইদাসি, বনগাঁও, কোনাগাঁও, চা¥্পরায় চা বাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার জানান, বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৩৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঢ এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত। এসব বিদ্যালয়েঢ শ্র্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্কা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, এখন পর্যন্ত ৮ হাজার হেক্টর আউস ও আমন ধান নিমজ্জিত রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারিভাবে বন্যার্তদের মধ্য ত্রাণের জন্য বরাদ্ধ এসেছে। ইতিমধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন. বন্যার তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না। একদিকে পানি কমলেও নি¤œাঞ্চলে প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ৬০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যার্তদের সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!