Logo

কমলগঞ্জে ৪২ বছর পর মনসা দেবীর নৌকা পূজা, ভক্তদের ঢল;

রাজু দত্ত / ১৯৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামে শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী মনসা দেবীর ঐতিহ্যবাহী নৌকা পূজা। দীর্ঘ ৪২ বছর পর কমলগঞ্জে এই পূজা আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
গত ২২ মার্চ রাতের শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ২৩ মার্চ সোমবার মূল পূজার দিনে পূজা-অর্চনা, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার ভক্ত ও সনাতনী ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক প্রাণের মিলনমেলায়।


এদিকে সোমবার বিকেলে মনসা দেবীর নৌকা পূজা পরিদর্শনে আসেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাশ। রাতে পূজামন্ডপ পরিদর্শন করে পূজারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল -কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
পূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহিষ বলি এবং বসেছে গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। আয়োজকরা জানান, কয়েক হাজার ভক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রসাদ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগত সকলের মধ্যে তা বিতরণ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল বলেন, “নৌকা পূজা আমি জীবনে এই প্রথম দেখলাম। এর আগে কখনো দেখিনি। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। হাজার হাজার ভক্ত দেখে মনটা আরও আনন্দে ভরে উঠেছে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাশ বলেন, “৪২ বছর পর নৌকা পূজার এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবিত করেছে। এটি ধর্মীয় চেতনা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পূজা উদযাপন কমিটি জানায়, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ এবং শেষ দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।


শ্রীশ্রী মনসা দেবীর নৌকা পূজা বাংলার প্রাচীন লোকজ ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপের দেবী হিসেবে পূজিত মনসা দেবীর কাছে ভক্তরা কল্যাণ, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। নদীমাতৃক বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে এই পূজার রয়েছে গভীর সম্পর্ক। নৌকার মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করে ভক্তরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, ভালো ফসল এবং জীবনের নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।
ধর্মীয় এই আয়োজন কেবল পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, সকলের অংশগ্রহণে এবারের নৌকা পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!