Logo
সংবাদ শিরোনাম :
সামাজিক বনায়নের জায়গায় পান বাগান, রাজকান্দিতে তীব্র ক্ষোভ শীতার্তদের পাশে আহমদনগর সমাজ কল্যাণ সংস্থা শবে বরাতে বালিগাঁওয়ে গরম শাহ (রহ.) মাজারে কবর জিয়ারতে হাজারো মানুষের ঢল কমলগঞ্জে কোয়াব কাপের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন ; চ্যাম্পিয়ন রাহাত ফাইটার্স শ্রীমঙ্গলে সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব পর্যটন স্পট শমশেরনগর গল্ফ মাঠে খনন: প্রতিবাদে উত্তাল এলাকা মৌলভীবাজার-৪ এ ভোটের লড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধানের শীষের প্রার্থী ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে জনগণ আবার রুখে দাঁড়াবে: মামুনুল হক নতুন মেরুকরণে মৌলভীবাজার–৪: প্রচারণায় প্রীতম দাস কমলগঞ্জে বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস পালিত সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিবের বাসভবনে কর্মী-সমর্থকদের মতবিনয় সভা কমলগঞ্জে বাড়ির পাশ থেকে পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার, ঘটনাস্থলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মৌলভীবাজার-৪ আসনে চূড়ান্ত ৬ প্রার্থী: জোটের সিদ্ধান্তে জামায়াত প্রার্থী প্রত্যাহার কমলগঞ্জে বরই চাষে মডেল আজাদুর রহমান, বদলে দিচ্ছেন এলাকার কৃষিচিত্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণে এগিয়ে এলো কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের কমলগঞ্জে কোয়াব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শীতের রাতে উষ্ণতার ছোঁয়া: আলিনগর চা বাগানে শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ এক যুগ পূর্তিতে মানবতার হাতছানি শমশেরনগর সার্বজনীন মহাশ্মশানঘাটে শীতবস্ত্র বিতরন

সামাজিক বনায়নের জায়গায় পান বাগান, রাজকান্দিতে তীব্র ক্ষোভ

রাজু দত্ত / ৩৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া ও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার অর্থের বিনিময়ে সামাজিক বনায়নের গাছ ও গুল্মলতা বিনষ্ট করে বনের পাশের বস্তির লোকদের মাধ্যমে পান জুম করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সহ সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 জানা যায়, সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন রাজকান্দি বন রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উঁচু-নিচু টিলাজুড়ে আদমপুর বনবিট বা জঙ্গলের অবস্থান। এর আয়তনে ১৩ হাজার ৮০ একর। সীমান্ত ঘেঁষা এ বনের পরেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। বনের একপাশের সীমান্ত ঘেঁষেই পুঞ্জির পান জুম। বাকি তিন পাশে গাছ আর বাঁশ বাগান। বড় বড় গাছের নিচ দিয়ে চলে গেছে হাঁটাপথ। কোথাও কোথাও দুই টিলার মাঝখান থেকেই চলে গেছে সরু পথ। রিজার্ভ ফরেস্টের ঘন জঙ্গলের এই বনে গাছ আর বেত বাগান থাকার কথা। এই বিটে ২০/২২ অর্থ বছরে গাছ বৃদ্ধির জন্য নেয়া সুফল প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প। কিন্তু কোথায় সেই সামাজিক বনায়নের গাছ।

 বন বিটের অসাধু কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার ও বন খেকোদের থাবায় বনের বাঁশ ও গাছ কেটে অবৈধ ভাবে বন জুড়েই যেন তৈরী করা হচ্ছে পান জুম। তারা আর্থিক ভাবে “আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ” হচ্ছেন তবে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। অপরদিকে সরকার হারাচ্ছেন বিপুল অংকের রাজস্ব। অসাধু রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় ৪ ব্যক্তিকে এই বনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তাদের বাহিরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ থাকে না বন বিভাগের। এমন তথ্য জানিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন,পান থেকে চুন খসলেই জেরার মুখে পড়তে হয় বনের পাশের নিরিহ বসবাসকারীদের। বন ধংবস কারীরা হচ্ছেন কাইয়ুম, ইলাছ,শেরআলী ও কালাম। এই বন নিয়ে স্থানীয় ভিলেজ পলিটিক্সও চলে। চলে রাজনীতিতে কৌশলের খেলাও। এই ভিলেজ পলিটিক্স আর কৌশলের খেলায় ফায়দা তুলে নেয়ায় জন্য বন বিট কর্মকর্তা এগিয়ে থাকেন। বিগত ২০২০/২২ সালে আদমপুর বন বিট এলাকার কাঁঠালকান্দি এলাকার শরত ও জগাই নামক টিলায় সৃজনকৃত সামাজিক বাগানগুলোতে গাছ ও বাঁশ বাগান উজাড় করে তারা পান জুমে পরিণত করেছে। এলাকায় এই ব্যক্তিরা একে অপরের প্রতিপক্ষ হলেও বন কেন্দ্রীক স্বার্থে তারা ঐক্যবদ্ধ। তার প্রমান মিলে বনের গহীন বনের ‘শরত ও জগাই’ নামক এলাকায়। এখানে তারা নিজেরাই সরকারী বন ভূমি পান চাষের জন্য স্থানীয় লোকদের মধ্যে সাব লীজ দেন। লীজ গ্রহিতারা তাদের লোক দিয়ে বাঁশ ও গাছ কেটে উজার করে তৈরী করছেন পান জুম। বনের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে খাসিয়া পুঞ্জি।পুঞ্জির সবাই বন বিভাগের বন ভিলেজার। এই ভিলেজার খাসিয়াদের রয়েছে পান বাগান বা পান জুম। তাদের নির্ধারিত পান জুমের বাহিরে নতুন করে জুম করছেন । তাদের সেই পান বাগান ঘেষেই সম্প্রতি অবৈধ ভাবে বস্তির বাসিন্ধারা ও করছেন পান বাগান। সরেজমিন বন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বনের ভিতরে সামাজিক বনায়ানের গাছ সহ প্রাকৃতিক ভাবে গজিয়ে ওঠা গাছ-বাঁশ কেটে বন ধ্বংস করে, আবার কোথাও গাছের গোড়ায় লাগানো হয়েছে পানের চারা। কাঁঠালকান্দির নার্সারি দিয়ে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ সনের বেত বাগান পেরিয়ে পয়েলা বাড়ির একটু সামনে গেলেই দেখা মিলে পান জুমের। এখান থেকে যত ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে নতুন নতুন পান জুম। স্থানীয়রা জানান,বন বিভাগকে ম্যানেজ করেই পান রোপনের নামে বনের টিলায় টিলায় বন দখলের মহোৎসব চলছে। পুরো বন জুড়েই যেন পান জুম করা হয়েছে। এখান থেকে রাজকান্দি বন রেঞ্জ ও বন বিটের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোয়ারা পেয়ে থাকেন। তাই নির্বিচারে বন ও বাঁশ বাগান উজাড় হলে ও কেউ যেন কিছুই দেখছেন না।

স্থানীয়রা জানান,এই বনে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের বিভিন্ন বাগান ও সিলেট প্রকল্প নামে বাগান করা হয়। এই বাগান করতে গিয়ে সংরক্ষিত বন ও বাঁশ বাগান ধ্বংস করা হয়। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বাগান করার নামে পকেট ভারী করা হয়েছে। নামে বাগান করা হলে বাস্তবে এগুলো পান বাগান। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে রাজকান্দি রেঞ্জ অফিসে অনেক কর্মকর্তা জড়িত এ পান জুম করার বিষয়ে জড়িত রয়েছেন।

 এবিষয়ে আলাপকালে আদমপুর বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনার যা ইচ্ছা তাই লিখেন,এতে আমার কিছু যায় আসে না। বনের ভিতরে বাঙ্গালীদের পান জুম করা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই করা হচ্ছে।

 রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বলেন আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি এখন তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!