আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার–৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনে নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ১০ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাস তাঁর প্রতীক ‘শাপলার কলি’ নিয়ে জোরালো গণসংযোগে নেমেছেন। এতে করে এলাকাজুড়ে ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উৎসাহ ও আলোচনার ঝড়।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রীতম দাস কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন হাট–বাজার, পাড়া–মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন উন্নয়ন, টেকসই গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।
গণসংযোগকালে তিনি বলেন, “কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। আমি চা শ্রমিক, খাসিয়া জনগোষ্ঠী, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, হাওড়–টিলা সংরক্ষণ এবং স্কুল–কলেজের মানোন্নয়নে কাজ করতে চাই। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষিতদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি আমার অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই আমার লক্ষ্য।”

এই গণসংযোগে এনসিপির পাশাপাশি জোটভুক্ত জেলা যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও শ্রমিকশক্তির নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। স্লোগান, পোস্টার ও লিফলেটে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রীতম দাসের সহজ–সরল জীবনযাপন, স্পষ্টবাদী অবস্থান এবং নতুন ধারার রাজনীতির আহ্বান তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান এই জনসম্পৃক্ততা মৌলভীবাজার–৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে ‘শাপলার কলি’ প্রতীককে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
উন্নয়ন ও অধিকারের প্রশ্নে এই গণসংযোগ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় এলাকাবাসী।