Logo
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে শ্রীশ্রী জগদ্বন্ধু আশ্রম পরিদর্শনে ভারতের সহকারী হাই-কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ ঝুমুর নাচে, আবিরের ছোঁয়ায় আলীনগরে ফাগুয়ার উচ্ছ্বাস ভাতার কার্ডের আশায় চার বছর, সমাজসেবা কার্যালয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি সম্মাননা ও ইফতারে প্রাণবন্ত কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আত্মনির্ভরতার পথে ৩০ নারী এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে ভুরভুরিয়া ছড়ায় পরিষ্কার অভিযান কমলগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ আটক ২ নিরালা পুঞ্জিতে ৫ হাজার পুণ্যার্থীর মিলনমেলা ।। সম্পন্ন হলো প্রেসবিটারিয়ান বার্ষিক সভা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিভূত এমপি হাজী মুজিব পিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মাঠে নেমেছেন ‘মুঈদ আশিক চিশতী’ হেলিকপ্টারে আগমন, হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সাত পাকে বাঁধা চীনা কনে ও বাংলাদেশি যুবক কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি, রোগীসেবায় নতুন প্রত্যাশা শপথের পর বাড়িতে নয়, হাসপাতালে ছুটলেন এমপি হাজী মুজিব মধ্যরাতে ভৈরববাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তিনজনের কমলগঞ্জে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস পালিত প্রেমের ডাকে চীন থেকে রাজনগর, হেলিকপ্টারে কনের আগমন শ্রীমঙ্গলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এ বিনামূল্যে ৪ শতাধিক মানুষ পেলো চিকিৎসাসেবা কমলগঞ্জে মাহে রমজান উপলক্ষে অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কমলগঞ্জে বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু, পারিবারিক কলহের অভিযোগ অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে কমলগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছে নানান জটিল রোগে

রিপোটার : / ৮১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানগুলোতে জরায়ু ক্যান্সার, চর্মরোগ, বিকলাঙ্গতা, রক্তশুন্যতা, পুষ্টিহীনতাসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অপুষ্টির শিকার চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। শিশুসহ চা বাগানের নারী ও পুরুষরা এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কুষ্ঠ ও যক্ষা রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে।

হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী সূত্রে জানা যায়, বাইরের এলাকার চেয়ে চা বাগানে যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশী। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেট বিভাগের চা বাগান ২০১৯ সনে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগী ছিলো ৩৬৪ জন। ২০২০ সনের জানুয়ারীতে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগী ২৫ জন। ২০১৯ সনে যক্ষায় আক্রান্ত সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটের চা বাগানে ৩ হাজার ২৫১ জন যক্ষা রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে শিশু রয়েছে ১২৬ জন। তবে এবছর যক্ষায় আক্রান্ত রোগী কতজন তার কোন পরিসংখ্যান জানা যায়নি। এজন্য এবছর বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রাদূর্ভাবে মার্চ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টিকেই তারা কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ।

তাদের মতে, খোলা ও উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ, মাদকাসক্তি, পুষ্টিকর খাবারের অভাবসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বিশাল চা শিল্প জনগোষ্ঠি। চা শ্রমিকদের বাড়ি ঘরের নাজুক অবস্থা ও রোগ সম্পর্কে অসচেতনতার কারনে চা বাগানে যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশী।

জেলার শমশেরনগর, কানিহাটি, দেওছড়াসহ কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিক কলোনীতে ঘেঁষাঘেঁষি ও ছোট ঘরে এক একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী সন্তানাদি নিয়ে অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে দিনযাপন করছেন। ঘনবসতি, পরিমিত খাবারের সমস্যা, কোন কোন ক্ষেত্রে গবাধি পশুর সাথে একই ঘরে বসবাস রয়েছে। চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থেকে এখনও অনেকেই বাইরে বের হতে পারছে না। কর্মক্ষেত্রেও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়-তুফান সবকিছু মাথায় বহন করেই কাজ করতে হয়। নারী শ্রমিকদের জন্য নেই কোন স্যানিটারী লেট্টিনের ব্যবস্থাও। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদাসীন বাগান মালিক পক্ষ।

বাগানে কর্মরত অনেক নারী ও পুরুষদের রক্তশুন্যতা, স্বাস্থ্যহীনতা, কুষ্ঠ, যক্ষা, বিকলাঙ্গ, চর্মরোগ, জন্ডিস, জরায়ু ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকিতে থাকতে দেখা যায়। প্রতিটি বাগানে বিকলাঙ্গতা, চর্মরোগীসহ জটিল ব্যাধীতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

শমশেরনগর চা বাগানের নারায়নটিলার একই লাইনে চারজন বিকলাঙ্গ রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে কিশোরী অনুকা চাষা (১৩), বয়োবৃদ্ধ অভিমনি চাষা (৬০), সীমা রেংগট (১৮) ও বাসন্তী গোয়ালা (৩৫)।

এছাড়াও কানিহাটি, দেওছড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানে এধরণের অনেক রোগী পাওয়া গেছে। শ্রীমতি চাষা ও মনি গোয়ালা জানান, আমাদের চা বাগানের অনেকেই বিকলাঙ্গ, চর্ম, পুষ্টিহীনতা সহ নানা রোগব্যাধী নিয়েই কাজ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, চা বাগানের নির্দিষ্ট একটি গন্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা নিতে গড়িমসি করছে। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী বেশী।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. তওহীদ আহমদ বলেন জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসা চা বাগানের শ্রমিকদের যথাসাধ্য চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া জেলার সদর হাসপাতাল ও সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জটিল রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!