Logo
সংবাদ শিরোনাম :
শমশেরনগর হাসপাতালে দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আল্পনার সাত রঙে সেজেছে বিটিআরআই সড়ক কমলগঞ্জে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিনে যুবদলের দোয়া মাহফিল সিলেটের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কমলগঞ্জে বেলা’র প্রচারাভিযান ‘সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত কমলগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মাধবপুর চা বাগান থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সাংবাদিক তুহিন হত্যা‘র প্রতিবাদে কমলগঞ্জে মানব বন্ধন কমলগঞ্জে গলাকেটে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা তীরের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা কমলগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবসে আলোচনা সভা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত । কমলগঞ্জ উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ গঠন দারিদ্রতার বেড়াজালে বন্দী অনন্যার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন কমলগঞ্জে যুবতীর আত্মহত্যা সীমাহীন ভোগান্তিতে টমেটো গ্রাম বনগাঁও এর কৃষকরা চিরনিদ্রায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ বাড়িতে গিয়ে জন্ম সনদ ও শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান

কমলগঞ্জের সফল কৃষক ‘মজিদ বক্স’

রিপোটার : / ১২৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৪

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষক মজিদ বক্স। ইতি মধ্যে লাউ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাল্লাপার গ্রামে লাউ চাষ করছেন তিনি। দেশীয় পদ্ধতিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া চাষ করে ইতিমধ্যে এলাকায় সফল লাউ চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে লাউ চাষি মজিদ বক্স বলেন, লাউয়ের চাষাবাদ করে জমি থেকে যেমন আশানুরূপ ফলন পাচ্ছি সেইসঙ্গে বাজারে দামও পেয়ে আসছি ভালো। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি একটু সহযোগিতা পেতাম, তাহলে লাউ চাষ করে আরো বেশি লাভবান হতাম।

সরেজমিনে কৃষক মজিদ বক্স লাউ ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, ‘২২ শতক জায়গায় লাউ চাষ করেছেন। মাচায় ঝুলে আছে অসংখ্য ছোট বড় লাউ। প্রতিনিয়ত সকাল বিকাল চলছে লাউক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় মজিদ বক্স বেশ খুশি। এরই মধ্যে সফল লাউ চাষি হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছেন তার কাছে। লাউ চাষ করে এই পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হওয়া সত্তে¡ও এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। তার জমিতে আরও ৫০ হাজার টাকার মতো লাউ আছে বলে জানান তিনি। বাড়তি আয়ের আশায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেন মজিদ বক্স। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলোর গুণগতমান ঠিক রাখায় প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর পরিমাণে লাউ ধরেছে। এই পদ্ধতিতে লাউ চাষে রোগবালাই অনেক কম ও ফলনও ভালো হয় বলে জানান মজিদ বক্স।
সফল চাষি কৃষক মজিদ বক্স এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘একটু বাড়তি আয়ের আশায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেছি। দুর্যোগপ‚র্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলোর গুণগতমান ঠিক রাখায় প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর পরিমাণে লাউ ধরেছে। এই পদ্ধতিতে লাউ চাষে রোগবালাই অনেক কম ও ফলনও ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও ভালো পাব। তিনি বলেন, ৭০-১০০ টাকার করে বিক্রি করছি লাউ। ২২ শতক জায়গায় আমি এই লাউ চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত বাজারে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। জমিতে আরও ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার লাউ আছে। লাউয়ের চাষ করে এত লাভ হবে, কখনো ভাবিনি। তাই আগামীতে লাউ চাষ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়াও তিনি বলেন, এই লাউ বিষমুক্ত। কারণ লাউ ক্ষেতে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। শুধু গোবর ব্যাবহার করেছি। সেই জন্য বিভিন্ন এলাকাতে লোকজন আমার জমিতে এসে লাউ নিয়ে যায়। এখানে পাইকাররাও আসে। আমাকে বাজারে লাউ নিয়ে যেতে হয়।
তবে কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগীতা পেয়েছেন কি না তা জানতে চাইলে মজিদ বক্স বলেন, ‘কৃষি অফিস আমাকে কোনো রকম সহযোগিতা করেনি। নিজ উদ্যোগে আমার এই পর্যন্ত আসা। আমি একজন প্রকৃত কৃষক কিন্তু উপজেলায় গিয়ে খুজ নিয়ে দেখুন আমার কোনো নামনিশা নাই। যারা কৃষক নায় তাদের নাম তাদের কাছে আছে। যদি তাদের সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমার জন্য ভালো হত।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি প্রায় সময় মজিদ বক্সের জমি থেকে লাউ কিনে নেই। কীটনাশক ছাড়া লাউ তাই বাড়ির সবাই পছন্দ। এছাড়াও এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন এসে নিয়ে যায়। ৭০-১০০ টাকার মধ্যে লাউ।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক লিয়াকত মিয়া জানান, ‘আমিও একজন টমেটো চাষি। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই টমেটো চাষ করছি। আমার গাছে প্রচুর পরিমান টমেটো আছে। আশা করছি অল্প কিছুদিনে মধ্যে টমেটো বিক্রি করা শুরু করতে পারবো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কোনদিন কৃষি অফিসের সহযোগিতা পাইনি। তারা তাদের পরিচিতজনদের সকল ধরনের সহযোগিতা করেন। আমাদের এসে দেখেনও না। তিনি বলেন, নিজ উদ্যোগে ও কোন পরামর্ষ ছাড়া লাউ চাষ করেছেন মজিদ বক্স। ভালো লাউ এসেছে উনার। বিক্রি করে লাভবানও হচ্ছেন তিনি। এছাড়াও তিনি বেগুন চাষ করেছে। সেখানে লক্ষ টাকার মতো বেগুন আছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জয়েন্ত কুমার রায় জানান, ‘কৃষকরা আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করি। আর মাঠ পর্যায়ে দেখেছি কিছু নতুন উদ্যোগতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন সারাবছরই সবজির চাষ হয়। কৃষকরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত লাউ চাষ করছেন। বাজারে লাউয়ের চাহিদা থাকায় ও নায্যদামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!