Logo

ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব :: একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ বাবু রাসেন্দ্র দত্ত

Reporter Name / ১৩০১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক এবং সাংবাদিকতার জগতের এক উজ্বল নক্ষত্র বাবু রাসেন্দ্র দত্ত । জেলার বাম রাজনীতির এই পুরধা ব্যক্তিত্ব ১৯৪০ সালের ১২ এপ্রিল তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা যতীন্দ্র মোহন দত্ত চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার এবং মাতা বিন্দুবাসিনী দত্ত চৌধুরী । তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেট জেলার ঢাকাদক্ষিনের দত্তরাইল গ্রামে।

তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও বিকম পাস করেন। পরে বিএড ও পাস করেন। বাল্যকাল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি অনুরাগী ছিলেন। পাক আমলে তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা রাসেন্দ্র দত্ত ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । পরে ১৯৫৭ সালে মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি এতে যোগদান করেন । বাম রাজনীতিকে এতদাঞ্চলে একটি শক্ত ভিতের উপর দাড় করাতে তিনি যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য তিনি অত্র এলাকায় বাম রাজনীতির একজন পুরধা হিসেবে পরিচিতি ।

তিনি ছিলেন ছাত্রদের ১১-দফা কর্মসূচির আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬৩ সালে বালিশিরা পাহাড় আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ পাক সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলেনেও ছিল তাঁর বিশাল অবদান। একই বছর তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গা তথা জয়বাংলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। ঐ সময়ে তাঁর সাথে তাঁর দলের অপর জাদরেল বাম নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রলীগের এম এ রহিম ও ছাত্র লীগ নেতা এস এ মুজিব গ্রেফতার হন। পাক সরকার তাদেরে মৌলভীবাজার জেলে প্রেরণ করে। কিন্তু হাজারো জনতার তুুমুল আন্দোলনের ফলে সরকার তাদেরে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ও কাজ করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৪ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেয়া সত্বেও বিরোধী রাজনীতি করার কারণে তাঁর নাম আজো তালিকা ভুক্ত হয়নি।

“৭২ থেকে শুরু করে ‘৯০ পর্যন্ত সকল সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী কর্তৃক তিনি আক্রমণের শিকার হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রফতার করে দুবছর জেলে রাখা হয়। পরে ন্যাপে প্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ এর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল তাঁর বিশাল অবদান।

১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারের আমন্ত্রণে তিনি দেড়মাসের জন্য লিডারস টোর প্রোগ্রামে রাশিয়া সফর করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে জনগণ কর্তৃক বিপুল ভোটের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক । ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ৪০ বছরের ও অধিক সময় তিনি দৈনিক সংবাদ সহ বিভিন্ন পএপএিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি প্রায় এ যাবত ৬৮ বছর ধরে রাজনীতিতে জড়িত আছেন। জীবনে রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন তিনবার। তাকে এতদাঞ্চলের সৎ, ত্যাগী ও আর্দশিক রাজনীতির ও সাংবাদিকতার প্রতীক বলা হয়ে থাকে।


More News Of This Category
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!