
বর্ষা রানী মালাকার এর কবিতা
(এক)
ফিরে দেখা গাঁ
আমার প্রিয় আপন নীড়ে
আসি বছর দশেক পরে।
ও -মা সে কী!দেখছি একি?
চোখে ছানি, পড়ল নাকি?
এই মাঠে চরত গরু
পথটা ছিল বড্ড সরু।
যেথায় গাছে বসত পাখি
সেথায় চায়ের দোকান দেখি।
ভাসত বিলে বুনো হাঁস
এখন মানুষ করছে বাস।
খেলত হেসে ছেলের দল,
এখন মস্ত চিনি কল।
ক্ষীর নদীটা পূর্ব হতে
বইছে এখন পশ্চিম স্রোতে।
সবাই খুশি এই বদলে
ছুটছে হেঁসে যুগের তালে।
সবাই বলে সকলি পাই
আমি তবু ও খুঁজিয়া ভাই।
শীতল বায়ু পাইনি দেখা
স্নিগ্ধ গ্রামের শান্তি রেখা।
***
(দুই)
হিয়ার আর্তনাদ
হিয়া বাবার হৃদয় পাখি
যার রবে রোজ মেলতো আঁখি।
যদি মেয়ের আঁচড় লাগে
মা কাঁদিতেন মেয়ের আগে।
ছিল সে প্রাণ নয়নতারা
কেমন বিধির আজব ধারা।
খেলবে বলে ছাড়ল গৃহ
ফিরল হিয়ার নিথর দেহ।
নখের আঘাতে দেহখানি তার
নরপশুর বলির শিকার।
লোলুপ দৃষ্টির অন্ধকার
বালিকা ও পায় না ছাড়।
হবে কি এর প্রতিবাদ?
ধ্বনিছে হিয়ার আর্তনাদ।
রোজ একটা হিয়া ঝরে
কত হিয়া মরলে পরে।
সুরক্ষিত আমার বোন
পাল্টাবে এই দৃষ্টিকোণ।
******