বিশেষ প্রতিনিধি ।। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জের কুমড়াকাপনে হুমায়ুন কবীর (২৩) নামে এক যুবককে খুন করা হয়। ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনীকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। আসামি ধরা না পড়ায় এই হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। এদিকে আসামী ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ।
কমলগঞ্জ থানায় করা অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত হুমায়ুন কবির (২৩) কমলগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুমড়াকাপন আবাসিক এলাকার কুমড়াকাপন গ্রামের মৃত মো: ছালেক মিয়ার ছেলে । সে ৪ বছর বয়সী এক সন্তানের জনক। গত ১৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হুমায়ুনের নিজ বাড়ীর সামনে ধলাই নদী থেকে পার্শবতী বাড়ীর লোকজন হাল্লা-চিৎকার করে লাকড়ী সংগ্রহ করছিল। এসময় হুমায়ুন চিৎকারকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে হাল্লাকারীদের একজন পাশ্র্ববর্তী বাড়ীর বাসিন্দা জয়নাল মিয়ার ছেলে সায়েদ মিয়া (৩০) গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় হুমায়ুন প্রতিবাদ করলে সায়েদ মিয়া তার হাতে থাকা কাঠের বর্গা (দেশীয় অস্র) দিয়ে হুমায়ুনের মাথার ডান পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
এসময় হুমায়ুনের আর্ত চিৎকারের তার স্ত্রী, মা সহ পার্শবর্তী মানুষজন ছুটে এসে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সিলেট এমএজি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১ আগষ্ট হুমায়ুন মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজীনা বেগম (২২) বাদী হয়ে হুমায়ুনসহ ৩ জনকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। কিন্তু ঘটনার ২২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এই হত্যাকান্ডের মূল হোত ও তার ২ সহযোগীদের কাউকেউ পুলিশ আটক করতে পারেনি ।আসামি ধরা না পড়ায় এই হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।
নিহত হুমায়ুনের স্ত্রী রোজিনা বগেম বলেন, ‘আমাকে যারা বিধবা করেছে ও আমার সন্তানকে যারা এতিম করেছে আমি তাদের ফাসি চাই।’
নিহত হুমায়ুন কবিরের মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে একা পেয়ে জয়নাল ও তার ছেলেরা মিলে নির্মম ভাবে হত্যা করে। এভাবে আমার ছেলের মৃত্যু হবে কখনো ভাবিনি। এখনো পুলিশ আসামীদের ধরতে পারেনি। পুলিশ যেন দ্রুত আসামীদের আটক করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন ছেলের হত্যাকারীদের আমি ফাসি চাই।
হামলাকারী জয়নাল ও তার ছেলেদের মোটোফোনে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই জিয়াউল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, মামলার আসামিদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ। খুব শিঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।