Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে বরই চাষে মডেল আজাদুর রহমান, বদলে দিচ্ছেন এলাকার কৃষিচিত্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণে এগিয়ে এলো কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের কমলগঞ্জে কোয়াব কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শীতের রাতে উষ্ণতার ছোঁয়া: আলিনগর চা বাগানে শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ এক যুগ পূর্তিতে মানবতার হাতছানি শমশেরনগর সার্বজনীন মহাশ্মশানঘাটে শীতবস্ত্র বিতরন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময় পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি কি ? শতাব্দী পেরিয়ে ঐতিহ্যের ধারা—পৌষ সংক্রান্তিতে কমলগঞ্জে ১১৬তম ‘নিমাই সন্ন্যাস’ উৎসব অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জে হিফজ সমাপ্তকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠান পৌষসংক্রান্তি ঘিরে কমলগঞ্জে জমজমাট ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে সিলেটের স্বাদ-ঐতিহ্য চুঙ্গাপুড়া পিঠা কমলগঞ্জে মনিপুরীদের ১১৬তম শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘নিমাই সন্ন্যাস’ উৎসব বুধবার কমলগঞ্জে হৈরোল ফাউন্ডেশনের গুণীজন সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন কাবিনের জমিতে গড়া শিক্ষালয়: ত্যাগের মহিমায় বিদায় নিলেন প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা র‌্যাব-৯-এর বিশেষ অভিযানে কমলগঞ্জে এয়ারগান ও গুলি উদ্ধার কমলগঞ্জে বেপরোয়া পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নিহত বৃদ্ধা শীতের তীব্রতায় অসহায়দের পাশে পুনাক মৌলভীবাজারে ৮০ জনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ মনোনয়ন বাছাইয়ে মৌলভীবাজারে চার আসনে টিকে রইলেন ২৬ প্রার্থী স্মৃতির টানে একত্রিত প্রাক্তনরা, আহমদ ইকবাল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলনমেলা

নয়নাভিরাম ভাড়াউড়া হ্রদ

রিপোটার : / ৮৫৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। শ্রীমঙ্গল সদর থেকে প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার হবে। পায়ে হেঁটে আসার যে জো নেই, তাতো বোঝাই যাচ্ছে। শ্রমিক পাড়া থেকে বেরিয়ে গেলেই পুরোটা লাল-নীল-সবুজের ক্যানভাস। দুধারে যতদূর চোখ যায় চা বাগান। মাতাল পরে নিপুণ হাতে চা তুলছেন চায়ের দেশের কন্যারা। কোনোদিকে তার তাকানো বারণ। সবুজে ঘেড়া চারপাশে চা বাগান আর মধ্যখানে বিশাল এক হ্রদ। নাম ভাড়াউড়া হ্রদ (লেক)। ফিনলে কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগানের ভেতরে অবস্থান বলে এই নাম। ভৌগলিক অবস্থান অনুসারে, লেকের দক্ষিণ-পূর্বে হোটেল গ্রান্ড সুলতানের সীমানা, পশ্চিমে মূল ভাড়াউড়া চা বাগান, উত্তরে রেললাইন ও পূর্বে লাউয়াছড়া। হঠাৎ হঠাৎ মাথায় কাঠবোঝাই যুবা কিংবা গরু তাড়িয়ে কিশোর চলেছে আপন গাঁয়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দৃষ্টিনন্দন কোনো চিত্রকর্মের চরিত্ররা প্রাণ পেয়েছে। তাতে আকাশ রয়েছে, রয়েছে মুখ টিপে হেসে চলে যাওয়া পেজা মেঘ, রোদের উঁকিঝুঁকি, দু-একটি পাখি আর ছড়ানো প্রশান্তির পরশ। গগনচুম্বী গাছেদের সঙ্গে সই পাতিয়ে এর মধ্য দিয়ে চিলতে জায়গা নিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ। সব পথ নদীতে গিয়ে থামে। কিন্তু এই পথ বুঝি পণ করেছে, ভাড়াউড়া হৃদে গিয়ে থামার। নিয়েই ছাড়বে যেনো! ভূগোলবিদ্যা বলছে, হ্রদ (ইংরেজিতে লেক) হচ্ছে ভূবেষ্টিত লবণাক্ত বা মিষ্টি স্থির পানির বড় আকারের জলাশয়। হ্রদ উপসাগর বা ছোট সাগরের মতো কোনো মহাসমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত নয়, তাই এতে জোয়ার ভাটা হয় না। বিভিন্ন ভূতাত্তিক কারণে মাটি নিচু হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। স্তরীভূত শিলায় ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে, অনেক বড় আকারের শিলাস্তর ফল্টের আকারে স্থানচ্যুত হলে, কিংবা ভূমিধ্বসের ফলে পাহাড়ী নদীর গতিপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। সরাসরি বৃষ্টিপাত ও হ্রদে পতিত হওয়া নদী বা জলধারা হ্রদে পানির সরবরাহ করে। ভাড়াউড়া হ্রদও উল্লিখিত কোনো একটির কারণ। লেকের একেবারে টিলার মাথায় বামে শিবঠাকুরের মন্দির।

এর কোল ঘেঁষে নেমে গেছে সরু গলি। বুনো লতা-পাতার গন্ধ গায়ে মেখে নেমে পড়–ন অনিন্দ্য সুন্দরলোকে। টিলার চূড়ান্তে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই একরের হৃদ পুরোটা দেখা যায় না। যারা কষ্ট করে শেষ মাথা অব্দি যাবেন, তাদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে মিলবে আরও খানিকটা মিঠে পানির অভিনন্দন। চারদিকে চা পাতার অবোধ্য ইশারা। পানিতে বাতাসের দোলায় ঝিরিঝিরি কারুময় ঢেউ। জলজন্মের স্মৃতি বুকে নিয়ে মেঘেরা ভিড় জমায় হ্রদের আয়নায়। বামদিক দিয়ে হাঁটা ধরলে চোখে পড়বে অসংখ্য ফৎনা তোলা ছিপের লাঠি। তাড়া না থাকলে বসে যেতে পারেন কারও পাশে। ছিপ নিয়ে শান্তির সঙ্গে বসলে রুই-কাতলা-মৃগেল মিলতেও পারে। এতো নির্জন-নির্মল শান্তির হাতছানি কার সাধ্যি এড়িয়ে যায়? কারও যে নেই এটা বাজি ধরা যায়! কিন্তু প্রচার-পরিচিতি নেই বলে হাতছানি শূন্যে মিলিয়ে যায়, মত আষাঢ়স্য শেষ দিবসে দুপুর থেকে ছিপ নিয়ে বসা ব্যবসায়ী চন্দন ভট্টাচার্যর। নেই কেন? স্মিতহাস্যে জানালেন, অনেকটা ভেতরে আর যাওয়া-আসার পর্যাপ্ত যানবাহন মেলে না বলে অনেকে জেনেও পিছিয়ে যায়। এর চেয়ে কম সুন্দর হ্রদ শুধু ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বিশেষ দেখভালের কারণে জনপ্রিয় হয়ে গেছে। দেখতে কতো সুন্দর এটা। সত্যিই ধক করে ওঠে বুক! তীব্র সুন্দর ভুলিয়ে দেয় পিছুটান, মুছে দেয় ফেরার পথ!


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!