
মৌলভীবাজারে পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। কৃষকরা পানি কমার বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হাওরের পানি। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় শতকোটি টাকার ফসল। ধান ঘরে তুলতে না পেরে প্রায় ২০ হাজার কৃষক এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে হাওর এলাকায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর বোরো ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমির ফসল পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, হাইল হাওর ও কেওলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ধান পানির নিচে। কিছু কৃষক ধান কাটার চেষ্টা করলেও নৌকা ও শ্রমিক সংকটে তা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান এখনও কাটা বাকি, অথচ কৃষি অফিস থেকে ৮৫ শতাংশ ধান কাটার তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
আনু মিয়া, তফাজ্জল হোসেন ও আল আমিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, গত ছয় দিন ধরে তাদের সোনালী ফসল পানির নিচে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নন-হাওর এলাকাগুলোতেও ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, টানা ভারী বর্ষণের কারণে হাওরে পানি বাড়ছে। পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চললেও ঢলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছিল, প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪.৫ থেকে ৫ মেট্রিক টন ধান আশা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭-১৮ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।