
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স নিয়ন্ত্রিত শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ম শ্রেণিতে পড়–য়া ঐশী রবিদাস নামে এক চা শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চা শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভূল চিকিৎসায় ঐ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে চা শ্রমিকরা বিক্ষোদ্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে ভাংচুর করে চিকিৎসকসহ স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক পর্যায়ে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পদত্যাগ করে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় চা শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চা শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ও শমশেরনগর হাজী উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাস (১৪)-কে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মাথা ব্যথা ও বমি নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
শমশেরনগর চা বাগানের বাসিন্দা মোহন রবিদাস জানান, থা ব্যথা ও বমি নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা সেলাইন ও এন্টিবায়াটিক ইনজেকশন পুশ করেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার ইমার্জেন্সী হলে চিকিৎসক তাকে অন্যত্র রেফার্ড করেননি। এই হাসপাতাল চা শ্রমিকদের একমাত্র ভরসার স্থল ছিল। চিকিৎসকের অবহেলায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
এদিকে হঠাৎ করে শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর খবর শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েক শত চা শ্রমিক ক্যামেলিয়া হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকসহ স্টাফদের ঘেরাও করে রাখে এবং ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর করে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম লিখিতভাবে পদত্যাগ করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক মো: জাকির হোসেন বলেন, চা শ্রমিক শিক্ষার্থী ঐশী রবিদাসকে এক মাস পূর্বে ডানকান হাসপাতালে নিয়ে আসলে তারা তখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেছিল।
একমাস পর গত বৃহস্পতিবার আবার অসুস্থতা নিয়ে ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখানে কোন ভূল চিকিৎসা দেয়া হয়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আলাপকালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ডানকান হাসপাতালের ইনচার্জকে শমশেরনগর এনে একজন চিকিৎসকের বাসায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। বাগানের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা চলছে।