
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর সার্বজনীন দেবালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী শতভূজা বাসন্তী দেবীর পূজা উপলক্ষে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর আয়োজন। দেবালয়ের ২০তম বার্ষিক আরাধনাকে ঘিরে এবার পাঁচদিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক কর্মসূচির সমন্বয়ে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এদিন ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরদিন ২৫ মার্চ মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ, পূজা-অর্চনা, ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহাঅষ্টমী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ আকর্ষণীয় পর্ব। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে ধামাইল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কৃষ্ণকলি ধামাইল সংঘের পরিবেশনায় জনপ্রিয় ধামাইল শিল্পী উমা দাসের পরিবেশনা ভক্তদের মাঝে ভিন্নমাত্রার আবহ তৈরি করবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা। এ আয়োজন গ্রামীণ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক মনোমুগ্ধকর মেলবন্ধন ঘটাবে।
২৭ মার্চ মহানবমীতে পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যারতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাত ১১টায় ভক্তিমূলক পদাবলি কীর্তনের আয়োজন রয়েছে, যা ভক্তদের আধ্যাত্মিক আবেগকে আরও গভীর করবে। ২৮ মার্চ বিজয়াদশমীতে পূজা সমাপনান্তে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
দেবালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী সত্যেন্দ্র কুমার পাল (নান্টু) এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী অসিত লাল বৈদ্য জানান, “শতভূজা বাসন্তী দেবীর আরাধনার মাধ্যমে আমরা দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনা করছি। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।”
তারা আরও জানান, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসবটি হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয়। দেবীপুরের এই আয়োজন ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তৈরি করেছে গভীর আগ্রহ ও উদ্দীপনা।