
কমলকন্ঠ ডেক্স।।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীনাথপুর আলমাছ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক আবেগঘন ও গৌরবোজ্জ্বল বিদায় সংবর্ধনা। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা, ত্যাগ ও ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানার অবসর উপলক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পৌর এলাকার শ্রীনাথপুর গ্রামে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনদের অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে আবেগময়। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং বিদ্যালয়ের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পারভীন সুলতানার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য। মবশ্বির আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মঙ্গলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাহীদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা পারভীন সুলতানার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, পারভীন সুলতানা শুধু পাঠদানের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষার প্রসারে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন—নিজের বিয়ের কাবিনে প্রাপ্ত জমি দান করে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই বিরল আত্মত্যাগ কমলগঞ্জবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে পারভীন সুলতানা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম এবং ছলিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দেবনাথসহ অন্যান্য বক্তারা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সম্মানিত জীবন কামনা করেন।
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠেও ফুটে ওঠে প্রিয় শিক্ষকের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তারা বলে,
“ম্যাডামের স্নেহ, ত্যাগ আর সঠিক দিকনির্দেশনাই আমাদের জীবনের পথ দেখাবে। এমন শিক্ষক পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চিৎলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিরা বেগম ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য চৌধুরী আসিফ ইবনে জামাল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানাকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। এক মহৎ প্রাণের বিদায়ে পুরো অনুষ্ঠানটি শেষ হয় বিষণ্ণতা আর গর্বে ভরা আবহে।
উল্লেখ্য, পারভীন সুলতানা তাঁর বিয়ের কাবিনে প্রাপ্ত জমি দান করে শ্রীনাথপুর আলমাছ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেন।